রুশ তেল নিয়ে ভারতের পাশে আমেরিকা? ২০ অক্টোবর দিল্লি আসছেন মার্কো রুবিও, আলোচনায় জ্বালানি ও বাণিজ্য

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 16 h ago
রুশ তেল নিয়ে ভারতের পাশে আমেরিকা? ২০ অক্টোবর দিল্লি আসছেন মার্কো রুবিও, আলোচনায় জ্বালানি ও বাণিজ্য
রুশ তেল নিয়ে ভারতের পাশে আমেরিকা? ২০ অক্টোবর দিল্লি আসছেন মার্কো রুবিও, আলোচনায় জ্বালানি ও বাণিজ্য
 
ওয়াশিংটন ডিসি

উজবেকিস্তান ও ভারত সফরের উদ্দেশ্যে আমেরিকা থেকে রওনা দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। শনিবার রাতে স্থানীয় সময়ে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। আগামী ২০ অক্টোবর তাঁর ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই সফরে ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করা, জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
আমেরিকা থেকে রওনা হওয়ার আগে রুবিও বলেন, “আমাদের দেশের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক সুযোগগুলি আরও সুনিশ্চিত করতে উজবেকিস্তান ও ভারতের উদ্দেশে রওনা দিলাম।”
 
এদিকে, রুশ জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনা না করে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, ভারত আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদার।
 
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত লিন্ডসে ও. গ্রাহাম প্রস্তাবিত আইনের আওতায় রুশ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল। সেই দেশগুলির মধ্যে ভারত ও চিনও রয়েছে। তবে আইনটির কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
 
চলতি মাসের শেষ দিকে ভারত সফরের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগারের কেন্দ্র গুজরাতের জামনগরেও যাওয়ার কথা রয়েছে রুবিওর। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবিত শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমেরিকার অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে ৬০ দিনের সময়সীমা ব্যবহার করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
 
রুবিও বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞাগুলি শুধু রাশিয়ার বিরুদ্ধে ছিল না। এর মধ্যে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর শুল্ক আরোপের বিষয়টিও ছিল। তাই আমার মনে হয়, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং এমনকি মার্কিন অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করতে প্রেসিডেন্ট এই ৬০ দিনের সময় নিতে চান।”
 
তিনি আরও বলেন, ভারত স্বেচ্ছায় নিজেদের জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য এনেছে। তবে একদিনের মধ্যে বিকল্প উৎসে সম্পূর্ণভাবে সরে যাওয়া কঠিন হওয়ায় এখনও রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হয় ভারতকে। একই সঙ্গে ভারত আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদার। তাই সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে এই সময়ের মধ্যে গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
 
মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, ভারত সফরে রুবিওর সঙ্গে ঊর্ধ্বতন সরকারি আধিকারিকদের বৈঠক হবে। আলোচনায় ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে।
 
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ খুঁজে বের করতে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মার্কিন বিদেশসচিব।
 
ভারতে আসার আগে উজবেকিস্তানে ‘সি৫+১’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন রুবিও। এই কূটনৈতিক মঞ্চের মাধ্যমে আমেরিকা ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিষয়টি তিনি তুলে ধরবেন।
 
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, রুবিওর আসন্ন সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার সুযোগ এনে দেবে।
 
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি-সহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
 
এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখা এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
 
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?
 
রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি, সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, এই তিনটি বিষয় রুবিওর ভারত সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ভারত নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে আমেরিকাও রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের প্রভাব এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে। ফলে ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা এই সফরের আলোচনায় দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ স্পষ্ট হতে পারে।


শেহতীয়া খবৰ