নয়া দিল্লি:
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জাপানের রাজধানী টোকিওতে গোপন বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে হওয়া এই বৈঠক এক মাসের মধ্যে দুই পক্ষের দ্বিতীয় আলোচনা। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের জেনারেলদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও এখন বিভিন্ন বিষয়ে ফের যোগাযোগ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।
সূত্রের খবর, বৈঠকে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধ করা এবং মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা খনিজসম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে নেপিডোতে দুই পক্ষের বৈঠকেও এসব বিষয় উঠে এসেছিল। তবে টোকিওর বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য, মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম লক্ষ্য মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করা, বিশেষত আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের প্রতারণা থেকে তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুবিদ্যুতের টারবাইন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুতও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খনিজের বড় অংশ রয়েছে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় এবং চীন এ ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ক্রেতা।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। সামরিক সরকারের নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল। তবে নতুন নীতির অংশ হিসেবে মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগের অবস্থান পুনর্বিবেচনার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈঠকগুলি মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধ, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং খনিজসম্পদ নিয়ে এই যোগাযোগ কতটা বাস্তব ফল দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।