গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি ইমামের, প্রশ্ন সরকারের তৎপরতা কোথায়?

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 h ago
গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি ইমামের, প্রশ্ন সরকারের তৎপরতা কোথায়?
গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি ইমামের, প্রশ্ন সরকারের তৎপরতা কোথায়?
 
শান্তিপ্রিয় রায় চৌধুরী : কলকাতা

গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক। এই জোরালো দাবি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসমির।এক সাক্ষাৎকারে ইমাম বলেন, "গোহত্যা নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে গন্ডগোল হোক, বিভেদ বাড়ুক, সেটা আমরা চাই না।"

ইমাম আরো বলেন,  "রাজ্যের নতুন সরকার গোহত্যা নিয়ে যে নির্দেশিকা জারি করেছে সেই নির্দেশিকা কিন্তু আজকের নয়। পশ্চিমবঙ্গে সেই ১৯৫০ সালে গো হত্যা নিয়ে আইন তৈরি  হয়েছিল। সেই মোতাবেক, গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে।  আর এই সার্টিফিকেট দেবে পশুদের একজন সরকারি ডাক্তার। আর প্রকাশ্যে গোহত্যা করা যাবে না। এর জন্য পর্দার ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ এমনভাবে কুরবানি করতে হবে যাতে অন্য কেউ বিব্রত না হয়।"
 
নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসমি
 
তারপরই  মহম্মদ শফিক কাসমির বলেছেন, "আমি সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি। এনিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আমরা চাই, সবাই সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মানুক। এর আগে সরকারে যারা ছিল তারা মুসলমানদের অপব্যবহার করেছে। মাংস খেতে দেওয়ার স্বাধীনতা দিয়ে ফায়দা লুটেছে। এখন আমাদের এই আইন মানা জরুরি।"

ইমাম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তিনি একাধিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান। তাঁর প্রশ্ন, গরুর বয়স ১৪ কিনা তা দেখার জন্য পশুর চিকিৎসকদের ব্যবস্থাকে করে দেবে? এছাড়াও গরুর কুরবানির জায়গাও সরকারকেই ঠিক করতে হবে। এই সব সমস্যার সমাধান করলে তবেই ব্যাপারগুলি সহজ হয়ে যাবে। 

এরপরই মুসলমানদের কাছে তাঁর আবেদন, 'আপনারা গো মাংস খাওয়া বন্ধ করুন । বন্ধ করলে এতে আপনাদের কোনও ক্ষতি হবেনা। এতে লুকিয়ে রয়েছে বিশাল অর্থনীতি। গরু হিন্দুদের দেবতা। তারা গরুকে খাইয়ে দাইয়ে   লালন পালন করে। সেই গরুর কাছ থেকে দুধ নিয়ে বিক্রি করে। এরপর গরুর মাধ্যমে চাষ আবাদ করে। এরপর চাষ করার ক্ষমতা চলে গেলে সেই গরুকে বেচে দেয় মুসলমানের হাতে। এমনিতে যে গাই গরুর দাম ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হয়, কুরবানির সময় তা ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকাতে বিক্রি হয়। আর এতে হিন্দুদেরই অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হয়। তারা কুরবানী থেকে এই টাকা আয় করে আরও কয়েকটা গরু কিনতে পারে। দ্বিতীয় কথা হল, মুসলমানেরা খাসি বা ছাগল বেশি প্রতিপালন করে। ফলে এই পশুর বিক্রি বেড়ে যাবে। তাতে লাভবান হবে মুসলমানরাই।"

 তাছাড়া ইমাম তথ্য দিয়ে এ ও বলেছেন,"ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি গরু রপ্তানি করা হয় বিদেশে। এটাও বন্ধ করতে হবে সরকারকে। গরুকে যদি জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়া হয় তাহলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মুসলমানদের কুরবানি নিয়ে আপত্তি, অথচ রপ্তানি বজায় থাকবে, সেটা হতে পারে না।"

সবশেষে ইমাম বললেন, "সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে স্বীকৃতি দিলে। যেমনটা ময়ূরকে জাতীয় পাখি হিসেবে গণ্য করছি আমরা, তেমনি নতুন একটা আইন পাস করা হোক হিন্দুদের এই দেবতার জন্য। এর জন্য সকল গোরক্ষকদের দল এবং হিন্দু মুসলিম দলের নেতা ও মানুষকে নিয়ে আমাদের সরকারকে বসতে হবে।কিন্তু উদ্যোগটা কোথায়?"