জঙ্গলমহলের ঘরে ঘরে স্বপ্নের ‘প্রস্তুতি’ ছড়াচ্ছেন পাপিয়া সুলতানা! জেলা পুলিশের ‘প্রস্তুতি’তে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ছাত্রীরাও
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 16 h ago
জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা ছাত্রীদের সঙ্গে
তরুণ নন্দী / কলকাতা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য পুলিশে প্রচুর সংখ্যক নিয়োগের ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি রাজ্যের নানা প্রান্তে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বলেছেন একাধিক পদক্ষেপ করার কথা। এই কারণে লেডি কনস্টেবল নিয়োগ করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুঁজে পাওয়ার আশা দেখছে যুবসমাজ।
এবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এক অনন্য উদ্যোগ নিলেন জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল এক অভিনব প্রকল্প ‘প্রস্তুতি’।
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর স্কুল মাঠে ‘প্রস্তুতি’ নামে এই ঐতিহাসিক ‘পাইলট প্রজেক্ট’-এর সূচনা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রকল্পের আওতায় কেশপুর ও আনন্দপুরের বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ৫০০–৬০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩৫০ জনই ছাত্রী। এদের মধ্যে অনেকেরই মুখ্যমন্ত্রীর নারী নিরাপত্তা ও লেডি কনস্টেবল নিয়োগের ভাবনার বিষয়টি আঁকড়ে ধরেছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার দূরদর্শী বক্তব্যের পর এই প্রকল্পকে ঘিরে জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শুধুমাত্র চাকরির সুযোগ করে দেওয়াই নয়, যাতে সঠিক নির্দেশনার অভাবে পিছিয়ে না পড়ে গ্রামীণ এলাকার মেধাবী ও লড়াকু ছেলে-মেয়েরা, তা নিশ্চিত করতেই এই আয়োজন।
জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা একটি ছাত্রীর সঙ্গে
এখানে প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন কর্মরত দক্ষ ও অভিজ্ঞ পুলিশকর্মীরাই। ‘প্রস্তুতি’ প্রকল্পের বিশেষত্ব হিসেব অনেকেই ব্যাখা করলেন এর দ্বিমুখী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর চাকরির চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য যা যা প্রয়োজন হবে তার সবটাই মিলবে একসঙ্গে।
তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারীদের পুলিশ কনস্টেবল ও আধাসামরিক বাহিনীর বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক অনুশীলন আর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প ধাপে ধাপে সমগ্র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, বর্তমানে কর্মরত পুলিশকর্মীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়াবেন।
জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা ছাত্রীদের সঙ্গে
কীভাবে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশ তাঁরা করে দেবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, পুলিশ যে সাধারণ মানুষের বন্ধু এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন। বিশেষভাবে ছাত্রীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নিরাপত্তা, আত্মনির্ভরতা আর আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে।
এদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রীদের অনেকেই বললেন, এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছে। ছোট থেকেই এমন করে সঠিক দিশা ও অনুপ্রেরণা পেলে ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়া অনেক সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রীদের একটি ছবি
জানা গেছে, এই প্রশিক্ষণ শিবিরে শারীরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান, জেনারেল ইন্টেলিজেন্স সহ বিভিন্ন বিষয়েরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আনন্দপুর ও কেশপুরের মাঠজুড়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তরুণ-তরুণীরা।
পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা আশ্বস্ত করেছেন, আগামী দিনে এই ‘প্রস্তুতি’-র আলো ছড়িয়ে পড়বে সমগ্র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। বিশ্লেষক থেকে সমাজ সচেতকদের ধারণা, জেলা পুলিশের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ জঙ্গলমহলের কর্মসংস্থানের মানচিত্রটাই একদিন বদলে দেবে।