বন্ধ নামাজ পড়া, ভেতরে ঢোকার এন্ট্রি পাসও বাতিল, সম্প্রসারণের জেরে কি সরছে দমদম বিমানবন্দরের মধ্যেকার পুরোনো মসজিদ?
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 11 h ago
বন্ধ নামাজ পড়া, ভেতরে ঢোকার এন্ট্রি পাসও বাতিল, সম্প্রসারণের জেরে কি সরছে দমদম বিমানবন্দরের মধ্যেকার পুরোনো মসজিদ?
তরুণ নন্দী / কলকাতা
এয়ারপোর্টের রানওয়ে সংলগ্ন মসজিদের নামাজ পাঠ বন্ধ হল। কলকাতা বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণের কারণে ভিতরে রানওয়ে সংলগ্ন প্রায় ১৩৬ বছরের পুরানো মসজিদটিকে নিয়ে কয়েক বছর ধরে প্রশাসনিক স্তরে আলাপ আলোচনা চলছে সরানোর বিষয়ে। শনিবার থেকেই নিরাপত্তা জনিত কারণে আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হলো পুরোনো বাঁকড়া মসজিদে সাধারণ মানুষের প্রবেশ। নামাজ পাঠও আপাতত বন্ধ এই মসজিদে। এদিন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বিমানবন্দরের ভিতর দিয়ে মসজিদে ঢোকার এন্ট্রি পাস।
কারণ হিসেবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্ষার কারণে যে রাস্তা দিয়ে দ্বিতীয় রানওয়ের কাছের ওই মসজিদে যেতে হয় সাধারণ মানুষকে, সেই রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তাই কোন সমস্যা তৈরি আগে তা মেরামতের জন্যই আগামী সোমবার পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এই মসজিদে যাওয়া ও সেখানে নামাজ পাঠ সাময়িক বন্ধের নেপথ্যে এক বড়সড় পরিকল্পনা কাজ করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মসজিদ সূত্রে খবর, এই ঐতিহাসিক মসজিদে প্রায় ৫০–৬০ জন মানুষ আসেন প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তের নামাজের জন্য। জানা গেছে, জুম্মার বারে সেই সংখ্যাটা আরও বৃদ্ধি পায়। বিরাটির কাছে বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বাসে চেপে নামাজ পাঠের জন্য আড়াই কিলোমিটার দূরের মসজিদে পৌঁছাতেন মুসলিম ধর্মালম্বীরা।
কিন্তু নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের কথা ভাবা হচ্ছে। আর এই ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা মসজিদের অবস্থান একটি বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, উত্তর দিকে দ্বিতীয় রানওয়ে আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি মসজিদের কারণে, আর তার ফলে রানওয়ের কাঙ্ক্ষিত যে দৈর্ঘ্য হওয়া দরকার তা আজও অধরা।
সদ্য ভোটের ফলাফলে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই এই বিষয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জানা গেছে, জেলা প্রশাসন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক বৈঠকের পর শনিবার মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জানিয়ে দেওয়া হয় নামাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত। তবে এই সিদ্ধান্তের পর বিমানবন্দরের ‘হাই সিকিউরিটি জোন’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর দমদমের বিধায়ক সৌরভ সিকদার অভিযোগ তুলেছেন যে, বিমানবন্দরের মত জায়গায় উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত।
এই এলাকায় ঢুকতে বায়োমেট্রিক তথ্য এবং বিশেষ পাস বাধ্যতামূলক হলেও সেখানে সাধারণ মানুষ অবাধে যাতায়াত করছিলেন এতদিন শুধুমাত্র একটি পরিচয়পত্র দেখিয়ে। ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি (বিসিএএস)-ও এই নিয়মে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের যুক্তি, যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও বিশেষ অনুমতি ছাড়া বিমান দাঁড়ানোর ‘অ্যাপ্রন এরিয়া’য় ঢুকতে পারেন না, সেখানে সাধারণ মানুষের এভাবে প্রবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিধায়কের দাবি করেছেন, জমিটি যেহেতু সম্পূর্ণভাবে এয়ারপোর্ট অথরিটির তাই বিকল্প জমির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জমির প্রস্তাব মসজিদ কমিটি মানতে নারাজ। এই বিষয়ে বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিক্রম সিং কিংবা মসজিদ কমিটির পৃষ্ঠপোষক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী কোনো পক্ষই আপাতত কোন কথা বলেন নি। তবে সাময়িকভাবে তৈরি হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী দিনে স্থায়ী রূপ নেয় কি না, তা নিয়েই এখন চলছে জোর চর্চা।