বিশ্বমঞ্চে ঘুঙুরের গর্জন! গুরুর অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের জয়পতাকা ওড়ালো ৩ 'সোনার মেয়ে'

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 21 h ago
বিশ্বমঞ্চে ঘুঙুরের গর্জন! গুরুর অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের জয়পতাকা ওড়ালো ৩ 'সোনার মেয়ে'
বিশ্বমঞ্চে ঘুঙুরের গর্জন! গুরুর অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের জয়পতাকা ওড়ালো ৩ 'সোনার মেয়ে'
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে সোনা জিতে ফিরল বাংলার বসিরহাটের তিন কন্যা। একেবারে ইতিহাস গড়ে ফেলল বসিরহাট মহাকুমার তিন কন্যা স্নিগ্ধা গাইন, আরোহী মণ্ডল এবং স্নেহা রায়। নেপালের কাঠমাণ্ডুতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ডান্স চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে বিশ্বের তাবড় প্রতিযোগীদের পেছনে রেখে দেশের নাম উজ্জ্বল করে সোনার পদক জিতে এনেছে তারা। বলা ভালো, উত্তর ২৪ পরগনার তেতুলিয়ার হঠাৎগঞ্জের স্নিগ্ধা, আর বাদুড়িয়ার আরোহী ও স্নেহা, এই তিন প্রতিভাধরের ঘুঙুরের আওয়াজ রীতিমত আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের জয়পতাকা ওড়ালো।
 
কাঠমাণ্ডুর মঞ্চে ওয়েস্টার্ন-সহ নাচের একাধিক বিভাগে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে এই তিন কন্যা। তাদের নাচের শিল্পশৈলী দেখে মুগ্ধ বিচারক থেকে শুরু করে দর্শকেরা। সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মত চেয়ে চেয়ে দেখল তাদের নিখুঁত তাল, ছন্দ আর অভাবনীয় নৃত্যশৈলীর জাদু। সমস্ত বাধা-বিপত্তিকে পেছনে ফেলে তারা প্রমাণ করে দিল, ইচ্ছেশক্তি থাকলে গ্রামের মাটি থেকেও বিশ্বজয় করা সম্ভব।
 
 
এই তিন কন্যার সাফল্যের নেপথ্যে যিনি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি হলেন তাঁদের প্রশিক্ষক প্রীতম অধিকারী। নিজে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'ডান্স বাংলা ডান্স ২০২১'-এর ফাইনালিস্ট হয়েও আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছোঁয়া অধরা রয়ে গিয়েছিল। এবার সেই ঘাটতি পূরণ করলেন নিজের ছাত্রীদের সাফল্যের মধ্যে দিয়ে।
 
ছাত্রীদের এই সাফল্যের পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফরম্যান্সের সুযোগ পাইনি, কিন্তু আমার ছাত্রীরা দেশের জন্য সোনা জিতে এনেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।
 
প্রশিক্ষকের সঙ্গে স্নিগ্ধা, আরোহী আর স্নেহার একটি ছবি
 
সোনার মেডেল গলায় ঝুলিয়ে ঘরের মাটিতে তিন কন্যা পা রাখতেই  গোটা বসিরহাটে যেন অকাল দীপাবলি নেমে এল। বর্ণাঢ্য র‍্যালি, ফুলের মালা, আর হাজারো মানুষের করতালিতে মুহুর্তের মধ্যে তৈরি হল উৎসবের পরিবেশ। বসিরহাট সহ গোটা বাংলা সাক্ষী রইল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। 
 
স্নিগ্ধা, আরোহী আর স্নেহার এই জয় আসলে সেই সমস্ত কোণঠাসা স্বপ্নের জন্য এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা, যারা ডানা মেলার সাহস পায় না। পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা সুযোগ সুবিধা যাই হোক না কেন, যদি লক্ষ্য থাকে স্থির আর পরিশ্রমে থাকে সততা তবে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষস্থানটি ছিনিয়ে নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়, তা প্রমাণ করলেন এই তিন শিল্পী।
 
পরিবারের সঙ্গে স্নিগ্ধা, আরোহী আর স্নেহার একটি ছবি
 
বসিরহাটের এই তিন নক্ষত্রকে কুর্নিশ জানিয়ে বহু নৃত্যশিল্পীরা বললেন, এরা সত্যিকারের প্রতিভা। যারা আগামী প্রজন্মের হাজারো প্রতিভাকে স্বপ্ন দেখার পথ খুঁজে দিল।


শেহতীয়া খবৰ