মুর্শিদাবাদ
ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে অভিনব উদ্যোগ নিল মুর্শিদাবাদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রাজ্যে এই প্রথম কোনও প্রাথমিক স্কুলের অন্দরে চালু হল ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যাঙ্ক। মুর্শিদাবাদের সুতি ১ ব্লকের প্রায় ৮০ বছরের পুরনো ঘোড়াপাখিয়া নম্বর–২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘জিপিএস ব্যাঙ্ক’।
দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা ব্যবস্থাপক প্রেম ঘোলুই ও অয়ন দাসের উপস্থিতিতে উদ্বোধন হয় এই বিশেষ উদ্যোগের। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের অর্থনৈতিক সচেতনতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই ব্যাঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, এর সমস্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছে স্কুলেরই ছাত্রছাত্রীরা। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির মোট ১৯ জন পড়ুয়াকে বিভিন্ন দায়িত্বে নির্বাচন করা হয়েছে। ক্যাশ কাউন্টারের দায়িত্বে রয়েছে পঞ্চম শ্রেণির রজনী দাস, অঙ্কুশ দাস, মৃন্ময়ী দাস এবং চতুর্থ শ্রেণির দিয়া দাস। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে তারা জমা ও হিসাব সংক্রান্ত কাজ শিখছে।
ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বনিম্ন ২ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত জমা রাখা যাবে। মাসে একবার প্রয়োজন অনুযায়ী সেই টাকা তোলার সুযোগ থাকবে। যদিও এই সঞ্চয়ের উপর কোনও সুদ দেওয়া হবে না। উদ্দেশ্য একটাই, শিশুদের মধ্যে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা।
উদ্বোধনের দিনেই উদ্যোগটি ভালো সাড়া ফেলে। প্রথম দিনেই ৩১ জন ছাত্রছাত্রী নিজেদের অ্যাকাউন্টে মোট ১১৯ টাকা জমা করে, যা এই প্রকল্পের প্রতি তাদের আগ্রহেরই ইঙ্গিত দেয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস জানান, এলাকার সাক্ষরতার হার ৭৪.২৬ শতাংশ হলেও কেবল লেখাপড়া জানাই যথেষ্ট নয়, আর্থিক শিক্ষাও সমান জরুরি। তিনি বলেন, গ্রামের মধ্যে খাতা-কলমের দোকান না থাকায় এতদিন শিক্ষকরা নিজেরাই ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সামগ্রী সংগ্রহ করে দিতেন। এখন থেকে শিশুরা নিজেদের সঞ্চিত অর্থ দিয়েই খাতা, কলম বা প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস কিনতে পারবে।
ব্যাঙ্ক কর্তাদের মতে, গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ ব্যাঙ্কের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও কাগজপত্রের কারণে প্রথমেই অস্বস্তিতে পড়েন। সেই অভিজ্ঞতা বদলাতে ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুদের ব্যাঙ্কিংয়ের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সঞ্চয়ের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বর্তমানে ২৭১ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে চলা এই বিদ্যালয়ের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই অভিভাবকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁদের আশা, ঘোড়াপাখিয়া নম্বর–২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘জিপিএস ব্যাঙ্ক’ ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য স্কুলের কাছেও অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠবে।