বৃদ্ধাশ্রম নয়, দেবতারা তো ঘরেই! গুরু পূর্ণিমায় ধর্ম-বর্ণ ভুলে মা-বাবাকে 'পুজো' করে নজির গড়ল অশোকনগরের এই স্কুল

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 14 h ago
বৃদ্ধাশ্রম নয়, দেবতারা তো ঘরেই! গুরু পূর্ণিমায় ধর্ম-বর্ণ ভুলে মা-বাবাকে 'পুজো' করে নজির গড়ল অশোকনগরের এই স্কুল
বৃদ্ধাশ্রম নয়, দেবতারা তো ঘরেই! গুরু পূর্ণিমায় ধর্ম-বর্ণ ভুলে মা-বাবাকে 'পুজো' করে নজির গড়ল অশোকনগরের এই স্কুল
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

গুরু পূর্ণিমায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল স্কুলের পড়ুয়ারা। যা নজির তৈরি করল গোটা সমাজে। যাঁদের হাত ধরে পৃথিবীর আলো দেখা, যাঁদের আদরে-শাসনে সন্তানেরা জীবনে চলার পথ খুঁজে পায় সেই বাবা-মা হল প্রথম ও পরম গুরু। তবে আধুনিক জীবনের গতিতে যখন ক্রমশঃ পারিবারিক বন্ধন আলগা হচ্ছে, তখন গুরু পূর্ণিমায় অশোকনগর বিদ্যাসাগর বাণীভবন উচ্চ বিদ্যালয় তুলে ধরল উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যা চোখ ভিজিয়ে দিল উপস্থিত সকলের।
 
এই স্কুলের সুসজ্জিত সেমিনার হলে গুরুপূর্নিমার দিন সারিবদ্ধ হয়ে বসেছিলেন পড়ুয়াদের বাবা-মায়েরা। আর পরম ভক্তিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করে তাঁদের চরণে শ্রদ্ধা জানাল সন্তানেরা। পাশাপাশি মা-বাবার চরণে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম জানিয়ে আশীর্বাদ চাইল খুদে শিক্ষার্থীরা। শেষে মিষ্টিমুখ করিয়ে সন্তানকে আর্শীবাদ করলেন বাবা-মায়েরা।
 
গুরু পূর্ণিমা উদযাপনের একটি দৃশ্য
 
সন্তানকে এভাবে প্রদীপ জ্বেলে পুজো করতে দেখে আনন্দে চোখে জল চলে এল বহু অভিভাবকের। সাধারণত গুরু পূর্ণিমায় শিক্ষক বা আধ্যাত্মিক গুরুদের বন্দনা করা হলেও, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. মনোজ ঘোষের উদ্যোগে স্কুলে এদিন প্রথম গুরু মা-বাবাকেই সবার ওপরে স্থান দেওয়া হল। অনুষ্ঠানে উচ্চারিত হলো "গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণুঃ গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ। গুরুঃ সাক্ষাৎ পরব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ॥"
 
এই বিশেষ দিনে সন্তানদের কাছে বার্তা দেওয়া হল, পিতা-মাতাই জীবনের আসল দেবতা, তাঁদের ঠাঁই বৃদ্ধাশ্রম নয়, চিরজীবন সন্তানের হৃদয়ে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. মনোজ ঘোষ জানালেন,  আমরা স্কুলের পড়ুয়াদের পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধের বিকাশে জোর দিয়ে থাকি।
 
গুরু পূর্ণিমা উদযাপনের একটি দৃশ্য
 
আজকের দিনে পারিবারিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে, বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা। তাই স্কুলের সব ছাত্রছাত্রীকে স্কুলজীবন থেকেই মা-বাবার প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলাই আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে। কারণ, পিতা-মাতাই হলেন সন্তানের জীবনের আসল গুরু।
 
এক পড়ুয়ার মা সাকিলা বিবি জানালেন, সন্তানের চোখে এই শ্রদ্ধা দেখে আমি আপ্লুত। আজকের দিনে কোনো স্কুল যে বাচ্চাদের এমন মূল্যবোধ ও মানবিক চরিত্র শেখাতে পারে, তা ভাবাই যায় না। প্রধান শিক্ষক মহাশয়কে অশেষ ধন্যবাদ।
 

এই মহতী উদ্যোগে উপস্থিত খ্যাতনামা শিক্ষাবিদদের উপস্থিতিতে ধর্ম-বর্ণের সীমানা পেরিয়ে হিন্দু-মুসলিম সব ধর্মের মানুষ এক ছাদের তলায় মিশে গেলেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শে অনুপ্রাণিত এই স্কুল ফোকাস করল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, আসল শিক্ষা লুকিয়ে চরিত্র গঠনে।


শেহতীয়া খবৰ