গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকের ঐতিহাসিক সাফল্য, মহাকাশে ‘ব্লু স্ট্র্যাগলার’ নক্ষত্রের জন্মের প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলল
গুয়াহাটি:
ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস গড়লেন গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি গবেষক ও ডিএসটি-ইনস্পায়ার (DST-INSPIRE) ফেলো আলি হাসান শেখ। আন্তর্জাতিক গবেষক দলের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এমন এক ‘ব্লু স্ট্র্যাগলার স্টার’ (Blue Straggler Star)-এর সন্ধান পেয়েছেন, যা গঠনের প্রক্রিয়াতেই ধরা পড়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যে তত্ত্বের কথা বলে আসছিলেন, এই গবেষণা তার প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণ তুলে ধরেছে।
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিমন জে. মেধি ও ড. হিতেন্দ্র সরকার, Indian Institute of Astrophysics-এর বিজ্ঞানী এবং ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গবেষকদের সহযোগিতায়। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী The Astrophysical Journal Letters-এ।
গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে নাসার TESS (Transiting Exoplanet Survey Satellite) এবং European Southern Observatory-এর Very Large Telescope (VLT)। প্রায় ৯,৫০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত Collinder 261 তারকা গুচ্ছের TIC 327546480 নামের একটি দ্বৈত নক্ষত্র ব্যবস্থায় দেখা গেছে, একটি অপেক্ষাকৃত কম ভরের নক্ষত্র ধীরে ধীরে নিজের ভর অন্য সঙ্গী নক্ষত্রের কাছে স্থানান্তর করছে। এই ভর স্থানান্তরের ফলে দ্বিতীয় নক্ষত্রটি নতুন শক্তি অর্জন করে আরও উজ্জ্বল ও তরুণ নক্ষত্রের মতো আচরণ করছে—যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে Blue Straggler Star বলা হয়।
আলি হাসান শেখ জানান, গবেষণায় দেখা গেছে ব্লু স্ট্র্যাগলার নক্ষত্রটির ভর সূর্যের প্রায় ১.৬৭ গুণ, আর তার সঙ্গী নক্ষত্রের ভর প্রায় ০.৩২ সৌর ভর। দুই নক্ষত্র মাত্র ২.১১ দিনে একবার পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করে এবং ভর স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় ৫.৪৬ বিলিয়ন বছর আগে শুরু হয়ে এখনও চলছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি বিরল নক্ষত্রের রহস্য উন্মোচনই নয়, বরং নক্ষত্রের বিবর্তন, দ্বৈত নক্ষত্র ব্যবস্থা এবং মহাবিশ্বে তারার জন্ম ও পরিবর্তন নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। বহু দশকের একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ধাঁধার সমাধানের পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।