ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে কোনো 'দুঃস্বপ্ন' নয়, কী এমন অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটালো কৃষকের ছেলে মেহেদী? যে ছেলেটির খবর পেয়ে নবান্ন থেকে এলো ফোন

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 5 h ago
ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে কোনো 'দুঃস্বপ্ন' নয়, কী এমন অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটালো কৃষকের ছেলে মেহেদী? যে ছেলেটির খবর পেয়ে নবান্ন থেকে এলো ফোন
ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে কোনো 'দুঃস্বপ্ন' নয়, কী এমন অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটালো কৃষকের ছেলে মেহেদী? যে ছেলেটির খবর পেয়ে নবান্ন থেকে এলো ফোন
 
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ

একেবারে প্রান্তিক কৃষকের ছেলে মেহেদীর লড়াই টেক্কা দিল সর্বভারতীয় স্তরে। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোনো পরিবারের ছেলে এখন স্টেথোস্কোপ হাতে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর স্বপ্ন দেখছেন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ছিল, তবুও কোন প্রতিকূলতাই আটকে রাখতে পারেনি উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামের এই অদম্য প্রতিভাকে। সংসারের দারিদ্র্যের সমস্ত অভিয়োগ সরিয়ে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET)-তে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ ব্লকের উচইট গ্রামের ছেলে মেহেদী হাসান মন্ডল। ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৬৪৬ নম্বর পেয়েছেন মেহেদী। তিনি সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ১৭২৫তম স্থান অর্জন করেছেন। আর ওবিসি বিভাগে ৫৭২তম স্থান দখল করেছেন।বলা ভালো, নিজের মেধার জোর আর মা-বাবার মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রমকে সম্বল করেই এসেছে এই আকাশছোঁয়া সাফল্য এসেছে মেহেদীর।
 

 
পরিবার সূ্ত্রে খবর, মেহেদীর বাবা ছানার উদ্দিন মন্ডল গ্রামের একজন প্রান্তিক কৃষক। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দুই বিঘা জমিতে চাষ করে ফসল ফলিয়ে চার সন্তানের মুখে ভাত তুলে দিয়েছেন।  আর মনে মনে সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করার স্বপ্ন দেখতেন। শত অভাবেও মা রোস্তমা বিবি সংসারের হাল ধরে রেখেছেন নিজস্ব কৌশলে। শত অভাবের মাঝেও সন্তানদের পড়াশোনায় কখনো ভাঁটা পড়তে দেননি এই কৃষক দম্পতি। বাবা-মায়ের সেই ত্যাগের মূল্য এবার মিলল ছেলের কৃতিত্বে।
 
জানা গেছে, রাইখন-মঞ্জুরিচক হাইস্কুল থেকে ৯১ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকেই মেহেদী নজর কেড়েছিলেন। এরপর উচ্চ মাধ্যমিকেও সমান ৯১ শতাংশ নম্বর পান।  তবে মনে মনে জেদ ছিল আসল লড়াইটা করবে নীটের সর্বভারতীয় মঞ্চে। করলও তাই, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর অধ্যবসায়কে সঙ্গী করে মেহেদী জয় করে নিলেন ডাক্তারির এই কঠিন যুদ্ধ। ছেলের সাফল্যের কথা জানার পর আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বাবা। আবেগপ্রবণ হয়ে বলে ফেললেন, কষ্টের দিনগুলো আজ সার্থক হলো। মেহেদীর এখন একমাত্র লক্ষ্য কল্যাণী এইমসে (AIIMS) ভর্তি হয়ে একজন দক্ষ মানবদরদী চিকিৎসক হওয়া। তিনি জানালেন, পড়াশুনার পাঠ শেষ করে গ্রামের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন।
 
মেহেদীর বাবা ছানার উদ্দিন মন্ডল ও মা রোস্তমা বিবি
 
বর্তমানে হরিরামপুরে দিদির বাড়িতে থেকে রাজ্য সরকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন মেহেদী। কৃষক পরিবারের ছেলের এই সাফল্যে পরিবারের সঙ্গে গোটা কুমারগঞ্জে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে। যে মাটির গন্ধে মেহেদীর শৈশব বেড়ে উঠেছে, সেই মাটিই আজ এক হবু চিকিৎসক স্বপ্ন দেখাচ্ছে গোটাগ্রামকে। আসলে সাফল্য পেতে গেলে শুধু দরকার অদম্য মনের জোর, যা করে দেখিয়েছেন মেহেদী।