ঐতিহ্যবাহী আচার মেনে শ্রীমন্দির থেকে বের হলেন বলভদ্র, শুরু হল পুরীর বিশ্ববিখ্যাত রথযাত্রা
পুরী (ওডিশা):
কোটি কোটি ভক্তের অপেক্ষার অবসান। ঐতিহ্যবাহী বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান ও শতাব্দীপ্রাচীন রীতি মেনে বৃহস্পতিবার ওডিশার পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির থেকে দেবাদিদেব শ্রীবলভদ্রকে বিশেষ 'পাহান্ডি বিজে' শোভাযাত্রার মাধ্যমে রথে আনা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে দেবী সুভদ্রা ও মহাপ্রভু জগন্নাথও নিজ নিজ রথে আরোহণ করবেন। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রা।
প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত এই রথযাত্রায় পুরীর বড়দাণ্ডে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও ভক্তরা এই উৎসবে অংশ নিতে পুরীতে আসেন। এবারের রথযাত্রাও কঠোর নিরাপত্তা ও বিস্তৃত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শাস্ত্র অনুযায়ী, রথযাত্রার দিনে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বড়ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রা শ্রীমন্দির থেকে বেরিয়ে তিনটি পৃথক রথে চড়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গুণ্ডিচা মন্দিরে যান। ভক্তদের বিশ্বাস, এই যাত্রা ভগবানের মাতৃগৃহে আগমনের প্রতীক। সেখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর 'বাহুড়া যাত্রা'-র মাধ্যমে দেবতারা আবার শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন। এ বছরের রথযাত্রার সমাপ্তি হবে ২৭ জুলাই 'নীলাদ্রি বিজে' অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হল 'ছেরা পহাঁড়া' অনুষ্ঠান, যেখানে গজপতি মহারাজ সোনার ঝাড়ু দিয়ে তিনটি রথ পরিষ্কার করেন। এই প্রাচীন আচার সমাজে সমতা, বিনয় ও সেবার আদর্শকে তুলে ধরে।
এদিকে উৎসব উপলক্ষে পুরীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লক্ষাধিক ভক্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, ড্রোন নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিসিটিভি এবং বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পানীয় জল, ট্রাফিক ও জরুরি পরিষেবার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র হিসেবে প্রতি বছরই পুরীর রথযাত্রা বিশ্বের নজর কেড়ে নেয়। এবছরও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে শ্রীক্ষেত্র পুরী।