ত্রিপুরার বাঙালিকন্যার হাত ধরে প্রথম সোনার পদকের স্বাদ পেল, কমনওয়েলথ গেমসে ভারত

Story by  Nurul Haque | Posted by  Aparna Das • 13 h ago
কমনওয়েলথ গেমসে সোনার ইতিহাস গড়লেন ত্রিপুরার অস্মিতা দে
কমনওয়েলথ গেমসে সোনার ইতিহাস গড়লেন ত্রিপুরার অস্মিতা দে
 
নূরুল হক / আগরতলা

ত্রিপুরার ক্রীড়া ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হলো নতুন এক অধ্যায়। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়লেন ত্রিপুরার মেয়ে অস্মিতা দে। শুক্রবার মহিলা ৪৮ কেজি বিভাগে ফাইনালে কানাডার হেইড কুমাসাকে পরাজিত করে তিনি ভারতের ঝুলিতে যোগ করেন আরও একটি স্বর্ণপদক।
 
ফাইনালে ওঠার পথে অস্মিতা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। কোয়ার্টার ফাইনালে স্কটল্যান্ডের ইভা ইউইন এবং সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডেরই সুমের শাহকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পৌঁছে যান ফাইনালে। বিশ্ব ক্রীড়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে এটিই অস্মিতার প্রথম স্বর্ণপদক। অলিম্পিয়ান দীপা কর্মকারের পর ত্রিপুরা পেল আরও এক ‘সোনার মেয়ে’।
 

অস্মিতার এই ঐতিহাসিক সাফল্যে গর্বিত গোটা ত্রিপুরা, গর্বিত সমগ্র ভারত। তার সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আনন্দের জোয়ার বইছে গোটা রাজ্যে ক্রীড়া জগতে।
 
বিলোনিয়ার দক্ষিণ সোনাইছড়ি গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা অস্মিতার সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও কঠোর সাধনা। ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের বিলোনিয়া সেন্টারে কোচ বীণা দেবনাথের হাত ধরেই জুডোতে তার পথচলা শুরু করে ছিলেন।
 

পরে ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে প্রশিক্ষক মানিক লাল দেবের তত্ত্বাবধানে জুডোর মৌলিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কোচ প্রণব সাহাও তার প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
 
রাজ্য ও জাতীয় স্তরে ধারাবাহিক সাফল্যের পর ২০১৮ সালে খেলো ইন্ডিয়া গেমসে পদক জিতে তিনি নির্বাচিত হন জাতীয় খেলো ইন্ডিয়া সেন্টারে। এরপর ভূপালে যশপাল সোলাঙ্কির অধীনে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের জুডোকা হিসেবে গড়ে তোলেন। জার্মানি, উজবেকিস্তান ও জাপানে কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি এশিয়ান জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
 

অবশেষে সেই দীর্ঘ সাধনার সেরা পুরস্কার এল কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে। অস্মিতা দে শুধু ত্রিপুরার নয়, ভারতের জুডো ইতিহাসেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন। দেশের প্রথম জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে পদক জয়ের পাশাপাশি স্বর্ণপদক অর্জন করে তিনি হয়ে উঠেছেন আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।