স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 4 d ago
স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা: 

ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, আদর্শ ও অবদান পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প চলে যাওয়ার ঘটনাকে পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া উচিত।

সোমবার কলকাতার ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিত্র ইনস্টিটিউশন-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তিনি রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন ও ইচ্ছার কথা জানাবেন।

তিনি বলেন, "সিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়ার কাহিনি পাঠ্যসূচিতে থাকার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, দেশপ্রেম, পশ্চিমবঙ্গ গঠনে তাঁর ভূমিকা এবং ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা উচিত।"যদিও পাঠ্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব স্কুল শিক্ষা দফতরের সিলেবাস কমিটির, তা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, একজন বিধায়ক হিসেবে তিনি কেবলমাত্র একটি প্রস্তাব রাখছেন। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি কোনও পাঠ্যসূচি নির্ধারণ করতে পারেন না।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যবইয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা, তাঁর সংসদীয় ভাষণ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে কাজ, দেশপ্রেম এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তুলে ধরা উচিত। তিনি বলেন, "স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব স্তরেই তাঁর জীবন ও আদর্শ পড়ানো, আলোচনা করা এবং গবেষণার বিষয় হওয়া উচিত।"অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীও।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, ১৯০৬ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মিত্র ইনস্টিটিউশনের ছাত্র ছিলেন এবং ১৯২৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য চলতি অর্থবর্ষে তাঁর বিধায়ক তহবিল (MLA-LAD) থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এই কেন্দ্রের আগের বিধায়ক বা সাংসদ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কোনও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেননি।

এছাড়া শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ওই কমিটির সভাপতি এবং মুখ্যসচিব সদস্য-সচিব। সরকারি ১০ জন প্রতিনিধি এবং সমাজের বিশিষ্ট ১০ জন সদস্যকে নিয়ে কমিটি গঠিত হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপনের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজন হলে আরও অর্থ দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে মধুপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক সম্পত্তি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একসময় বহু বাঙালির প্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র ছিল মধুপুর, সেখানে শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিবিজড়িত সম্পত্তি রক্ষায় সরকার পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।


শেহতীয়া খবৰ