বৃষ্টিতে ভিজে স্কুলের জুতো, তাই রাবারের জুতো পরে স্কুলে! শাস্তি হিসেবে ৬ ঘণ্টা আলাদা ঘরে বসিয়ে রাখার অভিযোগে তোলপাড় কলকাতা
কলকাতা:
বর্ষার বৃষ্টিতে স্কুলের নির্ধারিত জুতো ভিজে গিয়েছিল। তাই নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা ভেবে এক ছাত্রী রাবারের জুতো পরে স্কুলে যায়। অভিযোগ, শুধু এই কারণেই তাকে সারা দিনের ক্লাস থেকে দূরে রেখে প্রায় ৬ ঘণ্টা একটি আলাদা ঘরে একা বসিয়ে রাখা হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই স্কুলের শৃঙ্খলা, ড্রেস কোড এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন কলকাতার এক চিকিৎসক, যিনি ওই ছাত্রীর বাবা। তাঁর দাবি, ভারী বৃষ্টিতে মেয়ের স্কুলের জুতো সম্পূর্ণ ভিজে যাওয়ায় সাময়িকভাবে রাবারের জুতো পরিয়ে স্কুলে পাঠানো হয়েছিল। ইউনিফর্মের অন্য সব নিয়মই মেনে চলা হয়েছিল। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, নির্ধারিত জুতো না থাকায় ছাত্রীকে ক্লাসে বসতে দেওয়া যাবে না। অভিভাবকের অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে পুরো স্কুল সময় একা বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
বর্ষায় ড্রেস কোড, না কি মানবিকতা?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অস্বাভাবিক আবহাওয়ার সময় কি স্কুলগুলির ড্রেস কোডে কিছুটা নমনীয়তা থাকা উচিত নয়?
শিশু মনোবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, কোনও শিশুকে সহপাঠীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা তার আত্মসম্মান, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহে কলকাতায় টানা ভারী বৃষ্টিতে শহরের একাধিক এলাকায় জল জমেছে। বহু স্কুলের সামনেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, ফলে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার জন্য বিকল্প জুতো ব্যবহার করাকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।
উঠছে বড় প্রশ্ন ?
ড্রেস কোড কি শিশুদের নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
নিয়ম প্রয়োগের নামে কোনও ছাত্রছাত্রীকে মানসিকভাবে বিব্রত করা কি গ্রহণযোগ্য?
বর্ষাকালে স্কুলগুলির কি বিশেষ নমনীয় নীতি থাকা উচিত?
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মহল, অভিভাবক এবং শিশু অধিকার কর্মীদের মধ্যে আলোচনা ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।