অসম প্রকাশন পরিষদের গ্রন্থবর্ষ ২০২৫ ফেলোশিপ ঘোষণা, বাংলা-অসমিয়া-বড়ো ভাষার ৪৯ লেখক নির্বাচিত
গুয়াহাটি:
অসম সরকার ঘোষিত ‘গ্রন্থবর্ষ ২০২৫’ উপলক্ষে অসম প্রকাশন পরিষদের উদ্যোগে চালু হওয়া উচ্চাভিলাষী ‘গ্রন্থবর্ষ ২০২৫ ফেলোশিপ’-এর জন্য নির্বাচিত লেখকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও অসম প্রকাশন পরিষদের উপাধ্যক্ষ সুমন্ত চলিহা-র নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের বাছাই কমিটি দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার পর মোট ৪৯ জন লেখককে ফেলোশিপের জন্য মনোনীত করেছে।
এই ফেলোশিপের জন্য অসমিয়া, বাংলা, বড়ো এবং অসমের বিভিন্ন জনজাতীয় ভাষার লেখকদের কাছ থেকে ২২টি বিষয়ের ওপর পাণ্ডুলিপি আহ্বান করা হয়। মোট ৫১২ জন লেখকের কাছ থেকে ৫৪৭টি পাণ্ডুলিপি জমা পড়ে। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৪৯টি পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।
বাংলা ভাষায় নির্বাচিত লেখকরা
বাংলা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছেন দেবযানী চৌধুরী, সুদেষ্ণা চন্দ, শিশির সেনগুপ্ত, শাশ্বতী ঘোষ দস্তিদার, নিবেদিতা চক্রবর্তী, নিকিতা সাহা এবং শ্যামাশ্যাম কৃষ্ণপূজারী চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের গবেষণা ও অনুবাদকর্মের বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে বরাক উপত্যকার ঐতিহ্য, স্বাধীনতা সংগ্রামে অসমের বীর-বীরাঙ্গনা, রজনীকান্ত বরদলৈ ও পীতাম্বর রাজমেধির সাহিত্য, প্রাচীন কামরূপের ধর্মীয় ইতিহাস এবং সংস্কৃত ব্যাকরণ।
অসমিয়া ও বড়ো ভাষাতেও স্বীকৃতি
অসমিয়া ভাষায় ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান, লোকসংস্কৃতি, নাট্যচর্চা, পরিবেশ, নারী ক্ষমতায়ন, বৈষ্ণব ঐতিহ্য, কাজিরাঙা, সত্যজিৎ রায়, ভ্রাম্যমাণ থিয়েটার, বিভিন্ন জনজাতির সমাজ-সংস্কৃতি-সহ বিস্তৃত বিষয়ে ৩৯ জন লেখক ফেলোশিপ পেয়েছেন। বড়ো ভাষায় রিপেন বড়ো, সুশান্ত নারলা মুছাহাৰী এবং পদুলাল রামচিয়াৰী নির্বাচিত হয়েছেন।
ফেলোশিপের সম্মানী
নির্বাচিত প্রত্যেক ফেলোকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান এবং একটি প্রমাণপত্র প্রদান করা হবে।অসম প্রকাশন পরিষদের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য রাজ্যের বিভিন্ন ভাষায় মৌলিক গবেষণা, অনুবাদ সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং নতুন প্রজন্মের লেখকদের উৎসাহিত করা।