নারীর ক্ষমতায়নের বার্তা ছড়াতে ওডিশার বড় উদ্যোগ, ৫০০ বছরের ‘লক্ষ্মী পুরাণ’-কে ঘিরে তৈরি হবে করিডর
ভুবনেশ্বর:
নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক সমতা এবং পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ১৫শ শতকের ওড়িয়া কবি বলরাম দাস-এর স্মৃতিতে ‘লক্ষ্মী পুরাণ করিডর’ গড়ে তুলতে চলেছে ওডিশা সরকার। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১ কোটি ‘লক্ষ্মী পুরাণ’ বই বিতরণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুরী জেলার গোপ এলাকায় অনুষ্ঠিত ‘দ্য এপিক অব শক্তি বন্দনা – বলরাম দাসের লক্ষ্মী পুরাণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এই ঘোষণা করেন ওডিশার উপ-মুখ্যমন্ত্রী প্রভাতী পারিদা।তিনি জানান, গোপ ব্লকের বেগুনিয়া গ্রামে কবি বলরাম দাসের স্মৃতিস্থলে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘লক্ষ্মী পুরাণ করিডর’ নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের নকশা প্রস্তুত হয়েছে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
পর্যটনের পাশাপাশি ছড়াবে সামাজিক বার্তা.উপ-মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই করিডর শুধু ওডিশার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেই তুলে ধরবে না, বরং ‘লক্ষ্মী পুরাণ’-এর মানবিক ও প্রগতিশীল ভাবনাকেও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে তুলে ধরবে।
তিনি বলেন, “বলরাম দাসের ‘লক্ষ্মী পুরাণ’ সমাজের অগ্রগতির জন্য নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্ব শেখায়। এই গ্রন্থের মূল বার্তা ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে ন্যায়, সমতা ও মানবিক মর্যাদার কথা বলে।”ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হবে ‘লক্ষ্মী পুরাণ’রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ওডিশার প্রায় ৫০০ বছর আগের উদার সামাজিক চিন্তাধারা দেশের সর্বত্র পৌঁছে দিতে ‘লক্ষ্মী পুরাণ’ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ করা হবে।
কেন বিশেষ এই ‘লক্ষ্মী পুরাণ’?
গবেষকদের মতে, ‘লক্ষ্মী পুরাণ’ কেবল ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং সামাজিক সংস্কারের এক ঐতিহাসিক দলিল।
এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, দেবী লক্ষ্মী এক দলিত নারী শ্রিয়া-র বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং জাতপাতের ভেদাভেদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এমনকি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি স্বামী ভগবান বিষ্ণু (জগন্নাথ) এবং তাঁর ভ্রাতা বলভদ্রের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেন।
গবেষক অসিত মহান্তি বলেন, “প্রায় ৫০০ বছর আগে বলরাম দাস লিখেছিলেন যে কন্যারাও পিতার সম্পত্তিতে সমান অধিকারী। সেই সময়ের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত প্রগতিশীল চিন্তা।”
জাতপাতমুক্ত সমাজের বার্তা
ওডিশার আইন ও পূর্তমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন বলেন, ‘লক্ষ্মী পুরাণ’ শুধুমাত্র দেবী লক্ষ্মীর মাহাত্ম্য বর্ণনা নয়; এটি নারীর মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় এবং জাতপাতমুক্ত সমাজ গঠনের এক কালজয়ী দর্শন। এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই সরকারের এই উদ্যোগ।