শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির ভাণ্ডারে যুক্ত হল আরও এক গর্বের অধ্যায়। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি পেল বাংলাের দুই জনপ্রিয় মিষ্টি—জলভরা সন্দেশ এবং মনোহরা। একই সঙ্গে স্বীকৃতি মিলেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ডিঙি নৌকা নির্মাণশিল্পেরও। এই স্বীকৃতিকে বাংলার খাদ্য-ঐতিহ্য ও লোকশিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলার মিষ্টির কথা উঠলেই নানা স্বাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং কারিগরদের দক্ষতা। সেই ঐতিহ্যেরই দুই উজ্জ্বল প্রতিনিধি জলভরা সন্দেশ ও মনোহরা। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের স্বকীয় স্বাদ, প্রস্তুতপ্রণালি এবং ঐতিহ্যের জন্য এই দুই মিষ্টি বাঙালির রসনায় বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে। জিআই স্বীকৃতির ফলে তাদের স্বাতন্ত্র্য এখন আইনগতভাবেও সুরক্ষিত হল।
এই স্বীকৃতি পাওয়ায় দেশ-বিদেশের বাজারে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন মিষ্টি প্রস্তুতকারীরা। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এই মিষ্টিগুলিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি, গবেষণা এবং সরকারি সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে মিষ্টির সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানো গেলে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
শুধু খাদ্যঐতিহ্য নয়, বাংলার প্রাচীন নৌকা নির্মাণশিল্পও এবার জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে নতুন মর্যাদা পেল। বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই শিল্পের নিজস্ব নকশা, নির্মাণ কৌশল এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্বীকৃতি মিলেছে এই সম্মানের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের আশা, এর ফলে দেশ-বিদেশে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের পরিচিতি বাড়বে এবং নতুন বাজারও তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিআই স্বীকৃতি শুধু একটি সম্মান নয়; এটি ঐতিহ্য রক্ষা, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা এবং স্থানীয় কারিগর ও উৎপাদকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তবে এই সাফল্যকে বাস্তব উন্নয়নে পরিণত করতে বিপণন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
জলভরা সন্দেশ, মনোহরা এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকা নির্মাণশিল্পের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে, বাংলার ঐতিহ্য শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, আজও তার স্বাদ, শিল্প ও সৃজনশীলতা বিশ্বমঞ্চে সমানভাবে সমাদৃত। জিআই-এর এই সম্মান নিঃসন্দেহে বাংলার সাংস্কৃতিক ও খাদ্য ঐতিহ্যের মুকুটে আরও এক উজ্জ্বল পালক যোগ করল।