ড. রফিউল আমিন লস্কর
শতানন্দ ভট্টাচার্য
দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকার জন্য গর্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করলেন অধ্যাপক ড. রফিউল আমিন লস্কর। আন্তর্জাতিক গবেষণার জগতে তাঁর অসাধারণ সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শিক্ষা ও গবেষণা মহল। হাইলাকান্দির বাসিন্দা এবং বর্তমানে শ্রীভূমি (করিমগঞ্জ) জেলার এরালিগুলে অবস্থিত পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. লস্কর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত 'এসসিআইর্যাঙ্ক গ্লোবাল রেজিস্ট্রি-২০২৫'-এর বিশ্বের শীর্ষ ৫ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান অর্জন করেছেন।
'এসসিআইর্যাঙ্ক গ্লোবাল রেজিস্ট্রি' একটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা গবেষণা কার্যক্রমের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণাগত প্রভাব, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং জ্ঞানচর্চায় অবদানের মান নিরূপণ করে থাকে। এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান পাওয়া ড. লস্করের দীর্ঘদিনের গবেষণা, অধ্যবসায় ও একাগ্র সাধনারই স্বীকৃতি।
এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের খবর জানিয়ে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ড. জয়শ্রী চক্রবর্তী বলেন, ড. রফিউল আমিন লস্করের এই কৃতিত্ব শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষাবিষয়ক ও গবেষণামূলক উৎকর্ষেরও উজ্জ্বল স্বাক্ষর। তাঁর এই স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাইলাকান্দির বাসিন্দা ড. লস্কর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর শিক্ষকতা ও গবেষণার জগতে আত্মনিয়োগ করেন। দীর্ঘ গবেষণা জীবনে তিনি দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা থেকে একাধিক গবেষণাপত্র এবং সম্পাদিত গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা-প্রকল্প, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি নিয়মিতভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
ড. জয়শ্রী চক্রবর্তী আরও বলেন, গবেষণাক্ষেত্রে নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও নিরলস সাধনার ফলেই ড. রফিউল আমিন লস্কর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সঞ্চার হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ড. লস্করকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।