রাজ্য বাজেটে বড় প্রাপ্তি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, পাঁচ বছরে ‘ইনস্টিটিউট অফ এক্সেলেন্স’ গড়ার লক্ষ্য
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগোতে চলেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়টির আধুনিকীকরণ ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ১২০০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ‘ইনস্টিটিউট অফ এক্সেলেন্স’-এ পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বাজেট প্রস্তাবে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পে কেন্দ্র সরকার দেবে ১০০০ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকারের তরফে বরাদ্দ করা হবে ২০০ কোটি টাকা। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক চাপে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, এই অর্থের সাহায্যে পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, উন্নত গবেষণাগার এবং অত্যাধুনিক অ্যানালিটিক্যাল সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ‘ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স’ মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ এসেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। সেই সময় কেন্দ্রের তরফে ৭৫০ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ২৫০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু রাজ্যের আর্থিক সহায়তা না মেলায় সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকি ওই প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে এক কোটি টাকার প্রবেশমূল্যও জোগাড় করতে হয়েছিল প্রাক্তনীদের সহায়তায়। পরে ২০২৩ সালে কেন্দ্রের তালিকা থেকেও বাদ পড়ে যায় যাদবপুর।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন বাজেটের ঘোষণাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটার সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন, ল্যাবরেটরি এবং গ্রন্থাগারের অবস্থা ক্রমশই অবনতির দিকে যাচ্ছিল। নতুন এই আর্থিক সহায়তা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নতুন দিশা দেখাবে বলে তিনি আশাবাদী।
এদিন উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার জন্য চলতি বছরে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে একটি নতুন স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি স্থাপনের জন্য ১৫০ কোটি টাকা এবং সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, উচ্চশিক্ষার প্রসার ও আধুনিকীকরণে এ বছরের রাজ্য বাজেট যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, তার অন্যতম বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ঘোষিত এই ১২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল।