শতবর্ষী হাতে লেখা কুরআন ঘিরে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ, ইসলামি ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী এক পারিবারিক সম্পদ

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 6 h ago
শতবর্ষী হাতে লেখা কুরআন ঘিরে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ, ইসলামি ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী এক পারিবারিক সম্পদ
শতবর্ষী হাতে লেখা কুরআন ঘিরে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ, ইসলামি ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী এক পারিবারিক সম্পদ
 
মরক্কো:
 
ডিজিটাল যুগে যখন অধিকাংশ মানুষ মোবাইল অ্যাপ বা মুদ্রিত সংস্করণে পবিত্র কুরআন পাঠ করেন, ঠিক সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন একটি হাতে লেখা কুরআন শরিফ। মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী মাগরেবি শৈলীতে তৈরি এই পাণ্ডুলিপি শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং ইসলামি ক্যালিগ্রাফি, হস্তশিল্প এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য দলিল হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে সংরক্ষিত এই কুরআন শরিফের প্রতিটি পৃষ্ঠা হাতে লেখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি পূর্ণাঙ্গ কুরআন প্রস্তুত করতে অতীতে একজন দক্ষ ক্যালিগ্রাফারের কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগত। প্রতিটি আয়াতের অক্ষর, স্বরচিহ্ন এবং অলঙ্করণে ফুটে উঠেছে অসাধারণ ধৈর্য, নিষ্ঠা ও শিল্পরুচি।

এই পাণ্ডুলিপির অন্যতম আকর্ষণ এর বহুরঙা কালি ব্যবহার। মূল আরবি পাঠের পাশাপাশি লাল ও অন্যান্য রঙের কালি দিয়ে স্বরচিহ্ন চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পাঠকে আরও সহজ ও নির্ভুল করে তোলে। ইসলামি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণবিদদের মতে, মধ্যযুগীয় উত্তর আফ্রিকায় এই ধরনের রঙিন স্বরচিহ্ন ব্যবহার ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

শুধু লেখনশৈলী নয়, কুরআনটির বাঁধাইও বিশেষ মনোযোগ কাড়ছে। নরম চামড়ার মলাট, কেন্দ্রের বাদাম-আকৃতির অলঙ্করণ এবং ঐতিহ্যবাহী ভাঁজ করা ফ্ল্যাপ মাগরেবি পাণ্ডুলিপি শিল্পের স্বাক্ষর বহন করছে। ইতিহাসবিদদের মতে, এমন নকশা মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার ইসলামি সংস্কৃতিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সবচেয়ে আবেগঘন দিক হলো—এই কুরআন কেবল একটি ঐতিহাসিক বস্তু নয়; এটি একটি পরিবারের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি, ইবাদত ও আধ্যাত্মিক জীবনের অংশ। পাতাগুলোর বিবর্ণতা, ব্যবহারের চিহ্ন এবং হাতে স্পর্শের ছাপ প্রমাণ করে, এটি কোনো জাদুঘরের প্রদর্শনী ছিল না; বরং নিয়মিত তিলাওয়াত ও অধ্যয়নের মাধ্যমে জীবন্ত ঐতিহ্য হিসেবে টিকে ছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পাণ্ডুলিপিটির ছবি প্রকাশের পর বিশ্বের নানা প্রান্তের ইসলামি ইতিহাসবিদ, ক্যালিগ্রাফি অনুরাগী এবং সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে “সংরক্ষিত ইতিহাস”, “আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার” এবং “ইসলামি সভ্যতার শিল্প-ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন” বলে অভিহিত করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন প্রাচীন পাণ্ডুলিপি শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্য নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানচর্চা, শিল্পকলা এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের মূল্যবান সাক্ষ্য বহন করে। তাই এ ধরনের পারিবারিক সংগ্রহ সংরক্ষণ ও ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।