মাঠে নামলেই মিলিয়ে যায় ধর্ম! ৮ কিমি দৌড়ে নজির গড়ল দেবলীনা,মানসুরা,সিমরণ! সরূপনগরে ইতিহাস তৈরি করল ‘সম্প্রীতির ম্যারাথন’
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
ক্রীড়াক্ষেত্রই পারে ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে, যা প্রমাণ করে দেখালেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলার স্বরূপনগরের বাসিন্দারা। দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রাজ্যের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠন ‘অ্যাথলেটিক কোচেস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল’-এর উদ্যোগে এবং মোল্লাডাঙ্গা অগ্রগামী সংঘের পরিচালনায় রবিবার আয়োজিত হলো এক বিশেষ ‘সম্প্রীতির ম্যারাথন’। প্রায় ১০০ জন প্রতিযোগী-প্রতিযোগিনীদের অংশগ্রহণে সমগ্র এলাকা জুড়ে তৈরি হল আনন্দের পরিবেশ।
প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথন দৌড় শুরু হতেই রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে পড়লেন উৎসাহী মানুষজন। দৌড় শুরু হয় গোপালপুর প্রাইমারি স্কুলের মাঠ থেকে। আর শেষ হয় মোল্লাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলের মাঠে। গোপালপুর থেকে মোল্লাডাঙ্গা পুরো পথজুড়েই সামাজিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য চিত্র ধরা পড়ল। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই উদ্যোগকে বাড়তি আকর্ষণ এনে দেয়।
এদিন এই ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতাটি ফিতে কেটে শুভ সূচনা করেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ ইসমাইল সরদার, বিশিষ্ট সমাজসেবী তারক সাহা এবং অশোক মণ্ডল সহ বহু ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়াবিদ ইসমাইল সরদার সম্প্রীতির বার্তাকে প্রাধান্য দিয়ে খেলাধূলার গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি দাবি করলেন, খেলাধুলার মাধ্যমেই দেশের অখণ্ডতা ও সম্প্রীতি সবচেয়ে শক্তিশালীভাবে রক্ষা করা সম্ভব। গ্রামের সুপ্ত প্রতিভাদের তুলে ধরার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রশাসনের নজর আর সঠিক পরিকাঠামো ও সুযোগ পেলে বাংলার গ্রামীণ এলাকা থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের জাতীয় স্তরের খেলোয়াড়রা। পাশাপাশি নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা করতে পারলে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি পেতেও সাহায্য করে বলে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করেন তিনি।
প্রতিযোগিতায় ছেলেদের বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে দীপন সরদার, শুভেন্দু মল্লিক ও অরিত্র মণ্ডল। মেয়েদের বিভাগে সেরা তিনের স্থান জিতে নিল দেবলীনা সরকার, আলিশা খাতুন ও মানসুরা খাতুন। বিশিষ্ট সমাজসেবী তারক সাহা আয়োজকদের এমন উদ্যোগ দেখে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। ম্যারাথন দৌড়ের শেষ পর্বে মেয়েদের অংশগ্রহণকে উৎসাহ জানাতে নিজস্ব উদ্যোগে ১,০০০ টাকা পুরস্কার দেন। পাশাপাশি তিনি অঙ্গীকার করলেন, এলাকার ক্রীড়া উন্নয়নে সর্বদা পাশে থাকার। দিনশেষে, এই সফল আয়োজনকে কেন্দ্র করে যে সৌহার্দ্যের ছবি ফুটে উঠল, তা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা সরূপনগরের মানুষের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করল।