অরুণাচলে সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়ম, বাধ্যতামূলক পিআরসি, তফসিলি উপজাতির শংসাপত্র ও আদিবাসী ভাষায় দক্ষতা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 d ago
অরুণাচলে সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়ম, বাধ্যতামূলক পিআরসি, তফসিলি উপজাতির শংসাপত্র ও আদিবাসী ভাষায় দক্ষতা
অরুণাচলে সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়ম, বাধ্যতামূলক পিআরসি, তফসিলি উপজাতির শংসাপত্র ও আদিবাসী ভাষায় দক্ষতা

ইটানগর:

 অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য অভিন্ন যোগ্যতার মানদণ্ড অনুমোদন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকরির প্রার্থীদের স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র (পিআরসি), অরুণাচল প্রদেশের তফসিলি উপজাতি শংসাপত্র এবং অন্তত একটি স্থানীয় আদিবাসী ভাষায় দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক হবে।

এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর, সরকারি সংস্থা, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সংস্থায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

নতুন বিধানগুলি অবিলম্বে কার্যকর হবে। গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ পদ এবং সমতুল্য পদগুলির নিয়োগবিধি ও পরিষেবাবিধিতেও এই নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

নতুন যোগ্যতার নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং অরুণাচল প্রদেশের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র (পিআরসি) থাকতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে রাজ্যের আদি বাসিন্দা হতে হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী অরুণাচল প্রদেশের তফসিলি উপজাতি (এসটি) শংসাপত্র থাকতে হবে।

এছাড়াও প্রার্থীকে সরকারের বিজ্ঞপ্তিভুক্ত তালিকা থেকে অরুণাচল প্রদেশের অন্তত একটি আদিবাসী ভাষায় দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।

অরুণাচল প্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এপিপিএসসি) এবং অরুণাচল প্রদেশ স্টাফ সিলেকশন বোর্ড (এপিএসএসবি)-কে ভবিষ্যতের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও বিধিতে এই যোগ্যতাগুলি অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ভাষা পরীক্ষার ব্যবস্থাও চালু করা হবে।

এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হল, যখন অল অরুণাচল প্রদেশ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএপিএসইউ)-সহ বিভিন্ন সংগঠন সরকারি চাকরিতে প্রচলিত ৮০:২০ নিয়োগ অনুপাত বাতিল এবং স্থানীয় আদিবাসী যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

দীর্ঘদিনের ৮০:২০ নীতিতে রাজ্য সরকারের ৮০ শতাংশ চাকরি স্থানীয় তফসিলি উপজাতি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকত এবং বাকি ২০ শতাংশ সাধারণ প্রতিযোগিতার জন্য উন্মুক্ত ছিল।

এএপিএসইউ সরকারি নিয়োগে পিআরসি এবং অরুণাচল প্রদেশ তফসিলি উপজাতি শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাছেও সংগঠনটি তাদের সুপারিশ জমা দেয়। কমিটি স্থানীয় আদিবাসী ভাষায় দক্ষতা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ-সহ এএপিএসইউ-এর প্রস্তাবগুলি গ্রহণ করেছে।

এএপিএসইউ আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে ৮০:২০ নিয়োগ নীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণার জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমা দিয়েছে। দাবি পূরণ না হলে ১৭ আগস্ট ১২ ঘণ্টার রাজ্যব্যাপী বন্‌ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

অরুণাচল ফ্রন্টিয়ার ট্রাইবাল ফ্রন্টও (এএফটিএফ) ৮০:২০ অনুপাত সম্পূর্ণ বাতিল এবং সরকারি নিয়োগে এসটি ও পিআরসি শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী ভাষা বা উপভাষায় দক্ষতাকেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ করার দাবি জানিয়েছে তারা।

তবে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ৮০:২০ অনুপাত সরাসরি বাতিল করার কথা বলা হয়নি। বরং পিআরসি, স্থানীয় আদিবাসী পরিচয় এবং ভাষাগত দক্ষতার নতুন যোগ্যতার শর্তের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগকে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
 

শিক্ষা দফতরেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

শিক্ষা দফতরের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভা নিয়োগবিধি, ২০১০ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক ও ডেপুটি ডিরেক্টর অব স্কুল এডুকেশন (ডিডিএসই) পদে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ একবারের জন্য দুই বছর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধান শিক্ষক, ভাইস-প্রিন্সিপাল এবং জেলা প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা আধিকারিকদের প্রিন্সিপাল ও ডিডিএসই পদে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ ৮ বছর থেকে কমিয়ে ৬ বছর করা হয়েছে।

সরকারের আশা, এর ফলে সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে খালি থাকা প্রিন্সিপাল পদগুলি পূরণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্কুলের প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়া এবং শিক্ষার মান উন্নত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও মন্ত্রিসভা ফরেস্টার পদকে ‘ডেপুটি ফরেস্ট রেঞ্জার (স্পেশাল গ্রেড)’ হিসেবে পুনর্নামকরণের অনুমোদন দিয়েছে।

রাজ্য বিধানসভায় পেশ করার জন্য ‘অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট এরিয়া বিল, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে। শিল্পোন্নয়ন এলাকাগুলির পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করাই এই প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য।

এছাড়াও কৃষি দফতরের অধীনে সিনিয়র স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগবিধি, ২০০০ সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার থেকে সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একবারের জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে শূন্যপদ পূরণ এবং পরিকাঠামো প্রকল্পের তদারকি ও বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করাই এর লক্ষ্য।

এদিকে পিডব্লিউডির বর্তমান রূপা হাইওয়ে ডিভিশনকে বিছোম জেলার নাফরায় স্থানান্তর করে ‘নাফরা পিডব্লিউডি ডিভিশন’ হিসেবে পুনর্নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফ্রন্টিয়ার হাইওয়ের কাজ পিডব্লিউডি থেকে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) এবং বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও)-এর হাতে যাওয়ার পর প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।


শেহতীয়া খবৰ