এক পরিবার, এক গর্ব, দেশরক্ষায় তিন প্রজন্মের বীরগাথা

Story by  Nurul Haque | Posted by  Aparna Das • 56 m ago
এক পরিবার, এক গর্ব, দেশরক্ষায় তিন প্রজন্মের বীরগাথা
এক পরিবার, এক গর্ব, দেশরক্ষায় তিন প্রজন্মের বীরগাথা
 
নূরুল হক / আগরতলা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য ত্রিপুরা। আর এই রাজ্যের রাজধানী আগরতলার রামনগরের একটি পরিবার আজ দেশের প্রতি নিষ্ঠা, কর্তব্যবোধ ও দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। একই পরিবারের একের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী, ত্রিপুরা পুলিশ, ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস এবং হোম গার্ডের মতো নিরাপত্তা বাহিনীতে যুক্ত হয়ে দেশের সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং নিয়োজিত রয়েছেন।

এই পরিবারের প্রবীণ সদস্য লেফটেন্যান্ট সুরজ মিয়া, প্রাক্তন বিএসএফের ৯৩ ব্যাটালিয়নের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট ছিলেন। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধে তিনি ভারত থেকে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর দেশসেবার পথই যেন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার উৎস।
 
ভারতের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তে
 
সুরজ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও রয়েছে দীর্ঘ নিরাপত্তা-সেবার ঐতিহ্য। পরিবারের সদস্য লেফটেন্যান্ট আবদুল লতিফ ছিলেন বিএসএফের ৯ ব্যাটালিয়নে, লেফটেন্যান্ট আবদুল শহীদ ছিলেন ৭৮ ব্যাটালিয়নে। লেফটেন্যান্ট আলী আকবর ত্রিপুরা পুলিশের প্রথম ব্যাটালিয়নে এবং আবু কালাম ত্রিপুরা হোম গার্ডের প্রথম ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেছেন।
 
এছাড়াও মো. আবু তাহের প্রাক্তন বিএসএফের ৩৮ ব্যাটালিয়নের এএসআই, মো. আবু সায়েদ ৭৫ ব্যাটালিয়নের হেড কনস্টেবল, আবু হাসান ৫৬ ব্যাটালিয়নের হেড কনস্টেবল এবং লেফটেন্যান্ট আবু হোসেন ত্রিপুরা পুলিশের এমটিএফ ব্যাটালিয়নে এএসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
 
পরিবারের এই দেশসেবার ধারাবাহিকতা থেমে থাকেনি পরবর্তী প্রজন্মেও। মো. আবু জামাল বিএসএফের ১৪৫ ব্যাটালিয়নে এএসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবু বকর সিদ্দিকি ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের ৭ ব্যাটালিয়নে কর্মরত। হুমায়ুন কবীর বিএসএফের ১৭০ ব্যাটালিয়নে কনস্টেবল এবং আরশাদ আলী বেগ বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নে কনস্টেবল হিসেবে দেশের সেবা করেছেন।
 
ভারতের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তে
 
বিশেষ তাৎপর্যের বিষয়, হুমায়ুন কবীর ও আরশাদ আলী বেগ সুরজ মিয়ার নাতি। অর্থাৎ, এক প্রজন্মের দেশসেবার আদর্শ পরবর্তী প্রজন্মেও একইভাবে প্রবাহিত হয়েছে।
 
ধর্ম, ভাষা কিংবা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নিয়েছেন এই পরিবারের সদস্যরা। সীমান্ত পাহারা থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, বিভিন্ন দায়িত্বে তাঁরা ভারতের জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় নিজেদের কর্তব্য পালন করেছেন।
 
দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই পরিবারের বীরগাথা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ তাঁদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কারণ এই গল্প শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়, এটি সেই ভারতীয় চেতনার গল্প, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশকে নিজের আগে রাখার শিক্ষা বয়ে নিয়ে চলে।
 
রামনগরের এই পরিবার যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়,দেশপ্রেম শুধু কথায় নয়, দেশপ্রেমের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় কর্তব্য, ত্যাগ এবং দেশের জন্য নিরলস সেবার মধ্য দিয়ে।
 
ত্রিপুরার মাটির এই পরিবার তাই আজ এক অনন্য বার্তা বহন করছে “পরিবারের গর্ব যখন দেশের গর্ব হয়ে ওঠে, তখন সেই দেশসেবা প্রজন্ম পেরিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।”