বাংলার সুতোয় গেঁথে রইল দেশপ্রেম! সেলাই নয়, তাঁতে বুনেই আস্ত জাতীয় পতাকা তৈরি করে গোটা দেশকে চমকে দিলেন ফুলিয়ার তাঁতিরা
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 3 d ago
অরিজিৎ বসাক (তাঁত শিল্পী),বীরেশ বসাক (তাঁত শিল্পী) ও অভিনব বসাক (উদ্যোক্তা ও তাঁত শিল্পী)
তরুণ নন্দী / কলকাতা
স্বাধীনতা দিবসে নদিয়া জেলার ফুলিয়ার তাঁত শিল্পীরা এক অনন্য ইতিহাস স্পর্শ করলেন। সেলাই করে নয়, সরাসরি তাঁতে বুননের মাধ্যমেই তৈরি করা হচ্ছে ভারতের জাতীয় পতাকা। ফুলিয়ার তাঁতশিল্পীদের এই উদ্যোগে বাংলার নিজস্ব তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য আবারও গোটা দেশে নজির গড়ল।
‘স্বদেশী আন্দোলন’-এর ইতিহাসে হস্তচালিত তাঁতশিল্প কীভাবে সাড়া ফেলেছিল তা কারোরই অজানা নয়। সময়ের হাত ধরে তাঁত শিল্প এগিয়েছে। সেই ঐতিহ্যময় গৌরবকে আরও একধাপ উঁচুতে তুলে ধরে ইতিহাস সৃষ্টি করছেন নদিয়ার ফুলিয়ার তাঁতশিল্পীরা। একটাই কাপড়ে তাঁতের বুননেই প্রাণ পাচ্ছে ভারতীয় জাতীয় পতাকার ত্রিণয়ন রূপ। ফুলিয়ার তাঁতিদের হাতের নক্সা আর শিল্পশৈলী যেন ভারতের ৭৫ পেরোনো স্বাবলম্বী ভাবনার সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যকে একই সুতোয় বেঁধে রাখল।
পতাকা তৈরির একটি দৃশ্য
‘উইভার সার্ভিস সেন্টার’-এর সহায়তায়, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত তাঁতশিল্পী অভিনব বসাক এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ডিজাইনার মন্টু বসাকের যৌথ ভাবনায় এই কর্মযজ্ঞ ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে। আর ‘টাঙ্গাইল তন্তুবায় সমবায় সমিতি’এই কর্মযজ্ঞের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে।
শিল্পীদের দাবি, ১০০ শতাংশ খাঁটি সুতি ৯২ কাউন্টের সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে নির্মিত হচ্ছে ভারতের এই জাতীয় পতাকা। হ্যান্ডলুমের বিশেষ ‘কাট-শাটল’ প্রযুক্তির সৌজন্যে কাপড়ের প্রতিটি বুননের সঙ্গে নির্দিষ্ট ২:৩ অনুপাতে ২৪টি অরযুক্ত নীল অশোকচক্র নিখুঁতভাবে ফুটে উঠছে। তাঁরা মোট ১৫টি পতাকা তৈরি করছেন।
তাঁত শিল্পীদের মতে, প্রতিটি ২১ ইঞ্চি মাপের পতাকা বোনার পেছনে রয়েছে তাঁদের দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার কঠোর পরিশ্রম। পদ্মশ্রী বীরেন বসাক আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, এতদিন শুধু শাড়ি বুনেছি, কিন্তু আজ আমাদের হাতে তৈরি হচ্ছে দেশের জাতীয় পতাকা। সৃষ্টির এই অনুভূতি আসলে কোন ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বলতে পারেন, এই উদ্যোগ আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে তৈরি এই পতাকা সগর্বে উড়তে থাকবে আকাশে।
জানা গেছে, উইভার সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের হাতেও বাংলার তাঁতশিল্পের এই অমূল্য উপহার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বলা ভালো, যান্ত্রিক যুগে দাঁড়িয়ে বাংলার ঐতিহ্য বহন করা তাঁতশিল্পীরা যে এই অসাধারণ কারিগরি দক্ষতা দেখালেন তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে, জাতীয় পতাকার তিন রঙের মতোই উজ্জ্বল বাংলার তাঁতশিল্পের শক্তি ও দেশাত্মবোধের ধারা।