মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন বেলুড় মঠের সন্ন্যাসী! মানবতাই শেষ কথা, বিবেকান্দের এই বার্তা তুলে ধরে সম্প্রীতির পাঠ মহারাজের
তরুণ নন্দী / কলকাতা
সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখা গেল মুর্শিদাবাদের ডোমকলে। ১৫ই আগস্ট ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন বেলুড় মঠের মহারাজ। জামিয়া আরাবিয়া বাহরুল উলুম মাদ্রাসায় স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন বেলুড় মঠের সন্ন্যাসী স্বামী পরমানন্দ মহারাজ। এরপরেই স্বামী বিবেকান্দের আদর্শ, শিক্ষা ও সম্প্রীতির বার্তা তিনি তুলে ধরেন উপস্থিত সকলের মধ্যে। স্বাধীনতা দিবসে ডোমকলে মাদ্রাসায় এই ধরনের উদযাপন গোটা বাংলায় যেন পৌঁছে দিল জাতীয় ঐক্যের এক বলিষ্ঠ বার্তা।
পতাকা উত্তোলনের পর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মাদ্রাসার পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তায় অভিভূত হন স্বামী পরমানন্দ মহারাজ। স্বামী বিবেকানন্দের মানবতাবাদী আদর্শের কথা তুলে ধরে মহারাজ বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় এত সুন্দর পরিবেশে এত পড়ুয়াদের পড়াশোনা করতে দেখে যেন মন ভরে গেল।
জামিয়া আরাবিয়া বাহরুল উলুম মাদ্রাসায় স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন বেলুড় মঠের সন্ন্যাসী স্বামী পরমানন্দ মহারাজ
তিনি বোঝালেন, স্বামী বিবেকানন্দ যে আদর্শ চেয়েছিলেন, তার প্রতিফলন এই মাদ্রাসায় রয়েছে। আমরা চাই, এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরও গড়ে উঠুক। এখানে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান, চরিত্র গঠন ও আধ্যাত্মিক সাধনার যে পাঠ দেওযা হয় তা সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত। মহারাজ মনে করেন, এই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবধারা আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে গড়ে ওঠা প্রয়োজন। এতে করে মানুষ সঠিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।
এদিন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ৪৮০ ফুটের জাতীয় পতাকা নিয়ে শহরে সম্প্রীতির মিছিল করা হয়। এই মিছিলে এক সারিতে পা মেলালেন বেলুড় মঠের মহারাজ, বিশিষ্ট মৌলানাবৃন্দ, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
অনুষ্ঠানে স্বামী পরমানন্দ মহারাজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া ইমাম মোয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌলানা মোজাফ্ফর খান, সম্পাদক মৌলানা আব্দুর রাজ্জাক-সহ বিশিষ্টজনেরা। এরসঙ্গে সাধারণ মানুষজনের অংশগ্রহণ যেন বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল এই অনুষ্ঠানে।