মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র! হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার ভেনেজুয়েলার যুবক
নয়াদিল্লি
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এসেছে। হোয়াইট হাউসের অদূর থেকেই বিপুল অস্ত্রশস্ত্র-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে রনি ইওর্ড্রিক্স গুয়ানিপা সিরিনোস নামে ২৬ বছর বয়সি এক ভেনেজুয়েলার যুবককে। আমেরিকার নিরাপত্তা সংস্থার এই পদক্ষেপের পর প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনের কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউয়ে আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিসের আধিকারিকরা একটি নীল রঙের ফোর্ড এফ-১৫০ পিকআপ ট্রাক সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। গাড়ির ভিতরে থাকা যুবকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আধিকারিকরা দ্রুত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিরিনোস স্বীকার করেন, তাঁর মাথার ভিতরে প্রতিধ্বনিত হওয়া এক অজ্ঞাত কণ্ঠস্বর তাঁকে ওয়াশিংটনে গিয়ে প্রেসিডেন্টকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিল।
যুবকের এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির পর গাড়িটিতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে মোট তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে ছিল একটি এআর-১৫ রাইফেল, একটি ম্যাক-১০ মেশিন পিস্তল এবং একটি গ্লক ৪৩এক্স পিস্তল। এ ছাড়াও বেশ কয়েক ডজন সক্রিয় কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, যুবকটির ব্যবহৃত পিকআপ ট্রাকটি দক্ষিণ ক্যারোলিনা থেকে চুরি করা হয়েছিল।
আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেছিলেন সিরিনোস। তাঁর কাছে সে দেশে থাকার কোনও বৈধ নথিপত্র ছিল না। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বহন, লাইসেন্স ছাড়া পিস্তল রাখা, নথিভুক্ত নয় এমন অস্ত্র ও কার্তুজ নিজের হেফাজতে রাখা, চুরি যাওয়া গাড়ি ব্যবহার এবং চুরি করা সম্পত্তি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ। অন্যদিকে, অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
এই স্পর্শকাতর ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের ডিরেক্টর শন কারান। তাঁর বক্তব্য, হোয়াইট হাউসের মতো অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার কাছাকাছি এভাবে অস্ত্রশস্ত্র-সহ কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় হুমকি। তবে নিরাপত্তারক্ষীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই একটি বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানান।
গ্রেফতারের পর সিরিনোসকে ওয়াশিংটনের আদালতে পেশ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মার্কিন মার্শাল সার্ভিসের কঠোর হেফাজতে রয়েছেন। সত্যিই প্রেসিডেন্টকে আক্রমণের কোনও সুপরিকল্পিত ছক তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে গোটা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।