ভারতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী ডেনমার্ক, পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
নয়াদিল্লি:
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াতে উদ্যোগী ভারত ও ডেনমার্ক। সেই লক্ষ্যেই বুধবার ডেনমার্কের ব্যবসা ও প্রতিযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী মার্টিন লিডেগার্ডের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে পীযূষ গোয়েল জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভারত ও ডেনমার্কের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভারত ও ডেনমার্কের সম্পর্ক কেবল বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের উদ্যোগে দুই দেশের মধ্যে 'গ্রিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ' চালু হয়। এর আওতায় পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ, জল ব্যবস্থাপনা, সবুজ প্রযুক্তি, স্মার্ট সিটি এবং টেকসই উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা চলছে।
বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তি, অফশোর উইন্ড এনার্জি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং পরিবেশবান্ধব জাহাজ চলাচল দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ভারত সফরে ডেনমার্কের মন্ত্রী লিডেগার্ড কেন্দ্রীয় নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে অফশোর বায়ুশক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সংযুক্তিকরণ নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারতে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০টি ডেনমার্কের সংস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। এই সংস্থাগুলিতে কর্মরত রয়েছেন প্রায় এক লক্ষ মানুষ। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২.০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরিষেবা বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বৃহৎ বাজার, উৎপাদন পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে ডেনমার্কের উন্নত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং শিল্প অভিজ্ঞতার সমন্বয় দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন দিশা দিতে পারে। সাম্প্রতিক এই বৈঠক সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টারই অংশ।