ইছামতির পারে ভক্তির টানে মিলন দুই বাংলার! বসিরহাটের তারা ক্ষ্যাপার সাধনভূমিতে কালীপুজোয় বাংলাদেশ থেকেও ভক্তদের সমাগম

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
ইছামতির পারে ভক্তির টানে মিলন দুই বাংলার! বসিরহাটের তারা ক্ষ্যাপার সাধনভূমিতে কালীপুজোয় বাংলাদেশ থেকেও ভক্তদের সমাগম
ইছামতির পারে ভক্তির টানে মিলন দুই বাংলার! বসিরহাটের তারা ক্ষ্যাপার সাধনভূমিতে কালীপুজোয় বাংলাদেশ থেকেও ভক্তদের সমাগম
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

বসিরহাটে ইছামতির পাড়ে তারা ক্ষ্যাপার সাধনভূমির টানে আজও ভিড় করেন বাংলাদেশের মানুষজন। হাজার বছরের বেশি প্রাচীন কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিকে ঘিরে আজও তন্ত্রসাধনা ও ভক্তির মেলবন্ধন দেখা যায় ভক্তদের মনে। ইছামতি নদীপারের মাটিতে যেন সময়কে আঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছে এই প্রাচীন সাধনভূমি।
 
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে সাধক তারা ক্ষ্যাপার স্মৃতিবিজড়িত এই কালীমন্দিরকে ঘিরে আজও বেঁচে আছে নানা লোকবিশ্বাস। ভক্তরা মনে করেন, এই মন্দিরের মা খুবই জাগ্রত। তিনি ভক্তদের মনের বাসনা পূরণ করেন।
 
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে সাধক তারা ক্ষ্যাপার স্মৃতিবিজড়িত কালীমন্দির
 
শত বছরের পুরনো এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ একটি বিরল কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি। মন্দির পরিবারের সদস্যদের দাবি, মূর্তিটির বয়স হাজার বছরেরও বেশি হবে। জেলার এই প্রাচীন কালীপুজোর ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে আজও এখানে বিশেষ রীতিতে দেবীর আরাধনা হয়। কালীপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে ততই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় গোটা এলাকা।
 
কালিপুজোর দিন বহু দূরদূরান্ত, এমনকি বাইরের বহু রাজ্যের ভক্তদের ঢল নামে এই মন্দিরে। মন্দির কতৃপক্ষের দাবি, শুধু এপার বাংলা নয় ওপার বাংলাদেশ থেকেও বহু ভক্ত ইছামতির পারে এসে ভিড় জমান দেবীর দর্শনে। দেবীর বিরল মূর্তি যেন টেনে আনে ভক্তদের। প্রাচীন রীতি মেনে তান্ত্রিক মতে পুজোপাঠ সহ বিশেষ ভোগ নিবেদনের রীতি রয়েছে এই পুজোয়। সব মিলিয়ে সম্প্রীতির আবহে এই কালিপুজো আজও মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ।
 
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে সাধক তারা ক্ষ্যাপার স্মৃতিবিজড়িত কালীমন্দির
 
শোনা যায়, প্রাচীন এই কালীপুজোকে ঘিরে এলাকার মানুষ জাতি, ধর্ম ও বর্ণের বিভাজন ভুলে একসঙ্গে মেতে ওঠেন উৎসবে। মন্দির চত্বর থেকে আশপাশের এলাকা সর্বত্রই দেখা যায় মিলনমেলার ছবি। উৎসবের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকাজুড়ে।  
 
এই পুজোর দায়িত্বে থাকা পরিবারের সদস্য চামেলি গোস্বামী, সূর্যদেব গোস্বামী ও সমীরণ গোস্বামী জানান, পূর্বপুরুষদের কাছ থেকেই তাঁরা এই প্রাচীন মূর্তির ইতিহাস শুনে আসছেন। তাঁদের পারিবারিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের কালাপাহাড়ের জঙ্গলে তাঁদের বংশের এক সদস্য বন দফতরে কাজ করার সময় এই মূর্তিটির সন্ধান পান। একের পর এক ঘটনার পর্ব পেরিয়ে অবিভক্ত বাংলার সময় চ্যাটার্জি পরিবারের হাত ধরে মূর্তিটি বাংলাদেশের সাতক্ষীরার মদনপুরে পৌঁছয় বলে পরিবারের দাবি। সেখান থেকে স্বপ্নাদেশের পর তারা ক্ষ্যাপার পরিবারের সদস্যরা বর্তমান স্থানে দেবীমূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করেন।
 
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে সাধক তারা ক্ষ্যাপার স্মৃতিবিজড়িত কালীমন্দির
 
সময় বদলেছে, সেইসঙ্গে বদলেছে একের পর এক প্রজন্ম। কিন্তু কালীপুজো এলেই পুরনো সেই ঐতিহ্যকে বুকে নিয়ে আবার জেগে ওঠে বসিরহাটের এই প্রাচীন সাধনভূমি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, মায়ের আরাধনার সঙ্গে মিশে যায় মানুষের আবেগ। তন্ত্রসাধনার প্রাচীন রীতির পাশেই জায়গা করে নেয় সর্বধর্মের মানুষের উৎসাহ। ইছামতির পাড়ে এই কালীমন্দির আজও বাংলার এক ইতিহাসের সাক্ষ্য যেন বহন করে চলেছে করে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।


শেহতীয়া খবৰ