খাজা বাবার মাজারে চাদর চড়ানো ঘিরে উৎসবের আমেজ! তিন দিন ধরে চলে মেলা ও কাওয়ালির আসর, এই আকর্ষণে ছুটে এলেন হাজারো মানুষ
তরুণ নন্দী / কলকাতা
ধর্মীয় আবেগ আর আধ্যাত্মিকতা মেলবন্ধনে খাজা বাবার মাজারে চাদর চড়ানোকে কেন্দ্র করে উৎসবের আবহ দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারী ব্লকের ডিঘুয়াপাড়া গ্রামে। গোটা এলাকা যেন মেতে উঠেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও খাজা মঈনউদ্দিন চিস্তি (খাজা বাবা)-র চিল্লা মাজার শরিফে চাদর চড়ানো উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী মেলা ও কাওয়ালি মোকাবিলা নাইট অনুষ্ঠান আয়োজন হয়েছে।
বলা ভালো, এত সুন্দর অনুষ্ঠান পর্ব এই উৎসবকে এনে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ মাজার শরিফে পবিত্র চাদর চড়ানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর দরুদ পাঠ ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। শোনা যায়, মাজারকে ঘিরে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে।
ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন মানুষের বিশ্বাস, খাজা বাবার দরবারে মন থেকে প্রার্থনা করলে অনেকেরই মনস্কামনা পূর্ণ হয়। আর মনের এই বিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এখানে ছুটে আসেন প্রতি বছর বহু মানুষ। কেউ আসেন মানত করতে, কেউ দোয়া চাইতে, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই বিশেষ দিনের আনন্দ ভাগ করে নিতে।
তবে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই আবদ্ধ নয়, মাজারের চাদর চড়ানোকে কেন্দ্র করে তিন দিন জমজমাট মেলা দেখা যায়। অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে জনপ্রিয় সুফি সংগীত, কাওয়ালি মোকাবিলা। এবারের অনুষ্ঠানে চারটি বিশেষ পরিবেশনায় রয়েছেন একাধিক পরিচিত শিল্পী।
খাজা মঈনউদ্দিন চিস্তি (খাজা বাবা)-র চিল্লা মাজার শরিফ
প্রথম রাতে কাওয়ালি মোকাবিলায় দেখা গেছে জি বাংলার সিঙ্গার মুন্না আজাদ ও আমজাদ হোসেনকে। দ্বিতীয় রাতে কলকাতার স্বনামধন্য রুকসানা পারভীন এবং বিহার থেকে ইউটিউব সিঙ্গার সারুর শাবরি। তৃতীয় তথা শেষ রাতে ফের আসরে মুন্না আজাদ ও সারুর শাবরি। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ডিঘুয়াপাড়া-সহ আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। স্থানীয়রা তো বটেই, দূরদূরান্তে থাকা পরিবারের আত্মীয়স্বজন ও উৎসুক মানুষেরেও এই উৎসবে শামিল হতে এই গ্রামে ভিড় করছেন। যাঁরা কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে বা অন্যত্র রয়েছেন, তাঁরাও যাতে অনুষ্ঠান দেখতে পান তার জন্য ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করেছে উৎসব কতৃপক্ষ।
উদ্যোক্তা সরফরাজ আলী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও খাজা বাবার চিল্লা মাজার শরিফে চাদর চড়ানো উপলক্ষে মেলা কমিটির উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী মেলা ও কাওয়ালি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। যাঁরা দূরে রয়েছেন, তাঁরাও যাতে অনুষ্ঠান দেখতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে খাজা বাবার মাজারকে কেন্দ্র করে ডিঘুয়াপাড়ায় উৎসবকে কেন্দ্র করে খুশীর জোয়ারে ভাসছেন গ্রামবাসীরা।
খাজা মঈনউদ্দিন চিস্তি (খাজা বাবা)-র চিল্লা মাজার শরিফ
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মেলা, কাওয়ালিকে ঘিরে বেড়েছে সকলের উন্মাদনা। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এই উৎসব যেন হয়ে উঠেছে এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। বলা ভালো, তিন দিনের এই উৎসবকে ঘিরে পরিবারের আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী আর দূর-দূরান্তের মানুষদের একসঙ্গে মিলিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে সম্প্রীতির এক অনন্য ছবি। এখানে মাজারের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের পাশাপাশি গ্রামবাসীদের আবেগ জড়িয়ে থাকে পূর্নমাত্রায়।