জলে ভাসতে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক স্বর্ণকার কারিগরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ময়মনসিংহে। নিহতের নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। তাঁর মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিরঞ্জন ত্রিশাল উপজেলার রমেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে। গ্রামের বাড়ি ত্রিশালে হলেও স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি ময়মনসিংহ নগরীর স্টেডিয়াম এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। পেশায় তিনি জুয়েলারি কারিগর ছিলেন।
এর আগে বুধবার সকালে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার একটি স্লুইসগেটের কাছে জলে ভাসতে থাকা একটি ড্রাম দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামটি উদ্ধার করে। সেটি খুলতেই এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হয়।
পরিচয় শনাক্তের পর পুলিশ জানতে পারে, মৃত ব্যক্তি নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর। তাঁর মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন থাকায় হত্যার সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাঁকে হত্যার পর মরদেহ ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে জলে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে কেন তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। হত্যার কারণ, মরদেহ ড্রামে ভরে জলে ফেলে দেওয়ার সঙ্গে কারা যুক্ত এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের পর নিরঞ্জনের মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
নিরঞ্জন হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে—এমন কোনও তথ্য বা প্রমাণ এখনও পুলিশের তদন্তে পাওয়া যায়নি। তদন্ত এগোলেই হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।