ভাগীরথীর বুকে ৩০০ বছরের আলোর রোশনাই! নবাবী আমলের 'বেরা উৎসবে' হাত ধরাধরি করে আবেগে ভাসল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 3 h ago
ভাগীরথীর বুকে ৩০০ বছরের আলোর রোশনাই! নবাবী আমলের 'বেরা উৎসবে' হাত ধরাধরি করে আবেগে ভাসল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি
ভাগীরথীর বুকে ৩০০ বছরের আলোর রোশনাই! নবাবী আমলের 'বেরা উৎসবে' হাত ধরাধরি করে আবেগে ভাসল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

নবাব আমল আর নেই, নেই নবাবি দরবারের সেই জাঁকজমক কিন্তু সময়ের পরিবর্তন হলেও আজও সমানভাবে বেঁচে রয়েছে তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্য। ভাদ্র মাসের শেষ বৃহস্পতিবারের রাতে আলোর রোশনাইয়ে সেজে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের ভাগীরথী নদী। বাংলার প্রাচীন ঐতিহাসিক বেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে নবাবের শহর মুর্শিদাবাদে আনন্দে ভাসলেন হিন্দু-মুসলিম সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ। বলা ভালো, এই উৎসব আজও এক অনন্য সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।

ইতিহাস গবেষকদের মতে, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই উৎসবের সূচনা করেছিলেন নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ। পারসি শব্দ অনুযায়ী 'বেরা'-র অর্থ নৌকা।
 

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, জলদেবতা বা পির 'খাজা খিজির'-এর উদ্দেশে ভাগীরথী নদীতে এই আলোকসজ্জায় দুর্দান্ত করে সাজিয়ে ভেলা ভাসানোর প্রথা চলে আসছে ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। অতীতে জাফরাগঞ্জ প্রাসাদ থেকে এই উৎসবের সূচনা হলেও বর্তমানে হাজারদুয়ারি ও নিজামত ইমামবামড়ার সামনের তোপখানা ঘাট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এর পরিধি বলেই জানা যায়।
 
বর্তমানে ‘মুর্শিদাবাদ এস্টেট’-এর উদ্যোগে এই রাজকীয় বেরা উৎসব আয়োজিত হয় এখানে। প্রায় এক মাস ধরে প্রায় দেড়শো কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এই আলোক উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনের আলো নিভতেই এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে বেরা নিয়ে আসা হয় তোপখানা ঘাটে।
 
জলদেবতা বা পির 'খাজা খিজির'-এর উদ্দেশে ভাগীরথী নদীতে আলোকসজ্জায় দুর্দান্ত করে সাজিয়ে ভেলা ভাসানোর একটি দৃশ্য
 
নবাবি রীতিনীতি মেনে সোনার ও রূপার প্রদীপ জ্বালানো হয়। অতীতের প্রথা মেনে এরপরই ভাগীরথীর বুকে বেরা ভাসিয়ে শুরু হয় আতশবাজির রোশনাই। নদীমাতৃক বাংলার ঐতিহ্যকে সাক্ষী রেখে দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষ এই আলোকিত দৃশ্য উপভোগ করেন। 
 
মীরজাফরের ১৫তম বংশধর সৈয়দ মহম্মদ রেজা আলি মির্জা অর্থ্যাৎ ছোটে নবাব জানান, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই উৎসবে বাধা পড়েছে। তবুও আজও চলে আসছে এই বেরা উৎসব।  আলোর সাজে সজ্জিত এই ভেলা জলে ভাসতেই ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সব মানুষের আত্মিক সম্পর্কের মেলবন্ধন দেখা যায়।
 
জলদেবতা বা পির 'খাজা খিজির'-এর উদ্দেশে ভাগীরথী নদীতে আলোকসজ্জায় দুর্দান্ত করে সাজিয়ে ভেলা ভাসানোর একটি দৃশ্য
 
মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন কুমার ভট্টাচার্য এই উৎসবকে যথাযথ হেরিটেজের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সমস্ত আধুনিকতার বাইরে দাঁড়িয়ে বেরা উৎসবকে ঘিরে নদী ও সংস্কৃতির টানে সব ভেদাভেদ ভুলে আজও একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলতে শেখায় মুর্শিদাবাদের মানুষ।


শেহতীয়া খবৰ