হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জি৭-এর, ইরানকে সমর্থন বন্ধের আহ্বান

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 8 h ago
হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জি৭-এর, ইরানকে সমর্থন বন্ধের আহ্বান
হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জি৭-এর, ইরানকে সমর্থন বন্ধের আহ্বান

নিউইয়র্ক:

ইয়েমেন ও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের লাগাতার হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জি৭-এর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। বেসামরিক মানুষ ও পরিকাঠামোর ওপর হামলার পাশাপাশি এই সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছে জি৭। একইসঙ্গে হুথিদের অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার জারি করা বিবৃতিতে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও আমেরিকার বিদেশমন্ত্রীদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ স্বাক্ষর করেছেন।

জি৭ বলেছে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌ চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য “অগ্রহণযোগ্য হুমকি” তৈরি করছে। হুথিদের হামলা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

জি৭ ইয়েমেনের বৈধ সরকার ও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুথিদের অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা, হুমকি এবং বেসামরিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের উদ্দেশে জি৭ বলেছে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭৪৭, ২১৪০ এবং ২২১৬ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করে হুথিদের অস্ত্র সরবরাহ ও সমর্থন বন্ধ করতে হবে।

জি৭ আরও সতর্ক করেছে, এই হামলা সংঘাতের আরও বিস্তার ঘটাতে পারে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত করতে পারে এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি, সার ও খাদ্য পরিবহণসহ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন এড়াতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এই বিবৃতি এমন সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি কাসিম সারি দাবি করেন, সানা-কে লক্ষ্য করে সৌদির হামলার প্রতিক্রিয়ায় ওই অভিযান চালানো হয়।

তাঁর দাবি অনুযায়ী, দুটি সামরিক অভিযানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়। প্রথম হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং দ্বিতীয়টি ছিল ইয়ানবুতে আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা। ওই হামলায় ব্যাপক আগুন লাগার দাবিও করেন তিনি।

এরপর আমেরিকা ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ২০ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আমেরিকান প্রশাসন বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্যাম্প ডেভিডে রাত কাটানোর পর নির্ধারিত সময়ের আগেই হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন। সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকে ইয়েমেনে সম্ভাব্য হামলার বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সোমবার দাবি করেন, সৌদি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর দাবি, আল-জাওফ, তাইজ, সাদা ও মারিব প্রদেশে ১৫৭টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে মোট হামলার সংখ্যা ৯১৭-তে পৌঁছেছে।তবে এসব সামরিক দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জি৭ একইসঙ্গে ইয়েমেনের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গের উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন জানিয়ে গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের নেতৃত্বে, ইয়েমেনের মালিকানায় এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকার কথা জানিয়েছে।