পাকিস্তানে বছরে ১৫ লাখ শিশু অনলাইনে যৌন শোষণের শিকার, উদ্বেগ ইউনিসেফের

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 8 h ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
লাহোরঃ
 
পাকিস্তানে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ শিশু অনলাইনে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশটির ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের বড় অংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুদের প্রায় ৮৫ শতাংশের ক্ষেত্রেই অপরাধীরা আগে থেকেই পরিচিত ছিল। অনলাইন গেম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনের মাধ্যমে শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে ধীরে ধীরে তাদের আস্থার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। পরে উপহার, অর্থ বা ভালোবাসার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত ছবি চাওয়া, হুমকি এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়।

প্রতিবেদনে ‘জারা শাহরায়ের’ নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। অনলাইন গেমের মাধ্যমে এক অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি জারাকে আপত্তিকর ছবি পাঠাতে চাপ দেয় এবং অস্বীকার করলে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করার হুমকি দেয়। পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক লজ্জার আশঙ্কায় জারা কাউকে বিষয়টি জানাতে পারেনি।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানে অনলাইন যৌন শোষণের শিকার প্রায় ৭১ শতাংশ শিশু ঘটনাটি কারও কাছে প্রকাশ করেনি। জরিপে অংশ নেওয়া কোনো শিশুই পুলিশ, হেল্পলাইন বা সমাজকর্মীদের মতো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ করেনি। সামাজিক কলঙ্ক, পরিবারের প্রতিক্রিয়ার ভয় এবং মেয়েদের চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপের আশঙ্কাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

লাহোরের শিশু অধিকার সংগঠন ‘পাহচান’-এর তথ্য অনুযায়ী, তাদের কাছে রিপোর্ট হওয়া অনলাইন যৌন শোষণের প্রায় ৪৪ শতাংশ পুরোপুরি অনলাইনেই সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় স্ন্যাপচ্যাট ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

ইউনিসেফের হিসাব বলছে, পাকিস্তানে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন যৌন শোষণ, হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকিও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা জোরদার, সহজ অভিযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের একাংশের মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন হতে পারে এবং শিশুদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।