স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিলারা সার্টিফিকেট হাতে
দেবকিশোর চক্রবর্তী
বড়দিনের আগমনী সুরে এখন মুখর চারপাশ। কেকের মিষ্টি গন্ধে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে বর্ধমানে। তবে এবছর বর্ধমানের কেকের বাজারে যুক্ত হয়েছে এক ভিন্ন স্বাদ। প্রথমবারের মতো স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মুসলিম মহিলাদের হাতে তৈরি কেক বড়দিনের বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেক তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বনের পথে এগিয়ে চলেছেন এই মহিলারা।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গলসি ১ ও গলসি ২ ব্লকের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে মোট ২৪ জন মহিলা অংশগ্রহণ করেন। সাত দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শিবিরে দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে কেক তৈরির যাবতীয় প্রক্রিয়া হাতে-কলমে শেখানো হয়। উপকরণ নির্বাচন, মিশ্রণের অনুপাত, বেকিংয়ের কৌশল, স্বাদ ও গুণমান বজায় রাখার পদ্ধতি, সব দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রশিক্ষণে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিলারা সার্টিফিকেট হাতে
এই প্রশিক্ষণের ফলস্বরূপ ‘খাদ্যছায়া’ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা বড়দিনকে সামনে রেখে বাজারে এনেছেন বিভিন্ন স্বাদের কেক ও পেস্ট্রি। তাঁদের তৈরি ফ্রুট কেক, ভ্যানিলা কেক, প্লাম কেক এবং পেস্ট্রি ইতিমধ্যেই ক্রেতাদের নজর কাড়তে শুরু করেছে। ক্রেতাদের একাংশের মতে, স্বাদ ও মানের দিক থেকে এই কেক কোনও নামী বেকারি সংস্থার কেকের তুলনায় কম নয়।
বর্তমানে জেলাশাসক দপ্তরের কাছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দুটি স্টল বসানো হয়েছে। সকাল থেকেই সেখানে কেকের পসরা নিয়ে হাজির থাকছেন আজমিনা খাতুন, জোৎস্না বেগম, মহিমা শেখ-সহ গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যরা। নিজেদের হাতে তৈরি কেক বিক্রি করতে পেরে খুশি তাঁরা। ক্রেতাদের কাছ থেকে মিলছে ইতিবাচক সাড়া, যা তাঁদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য আজমিনা খাতুন জানান, “আগে আমরা শুধু সংসারের কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলাম। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ পেয়ে নতুন কাজ শেখার সুযোগ পেয়েছি। এখন নিজের উপার্জনে সংসারে আর্থিক সহায়তা করতে পারছি।” একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন জোৎস্না বেগম ও মহিমা শেখও। তাঁদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলার তৈরি কেকের ছবি
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই ধরনের প্রশিক্ষণ ও বিপণনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বড়দিনের মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে কেকের চাহিদা থাকায় এই সময়টিকেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেওয়া হয়। আগামী দিনে আরও বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে এই ধরনের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্ধমানবাসীর কাছেও এবছরের বড়দিনে এই কেক যেন বাড়তি প্রাপ্তি। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম মহিলাদের স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার এই উদ্যোগ এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। কেকের স্বাদে যেমন রয়েছে মিষ্টতা, তেমনই এই প্রয়াসে রয়েছে আত্মনির্ভরতার উষ্ণতা, যা বড়দিনের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।