দেবকিশোর চক্রবর্তী
কলেজ স্কোয়ার ও কলকাতা ইউনিভার্সিটির বিপরীতে বিদ্যাসাগর মূর্তির পাদদেশে রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে "নারী সম্মান ও ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার যেন থাকে" এই দাবি নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শর্ট ফিল্মের অভিনেত্রী ও কবি লেখিকা রানু রায়, কবি সাহিত্যিক ক্রীড়াবিদ চিত্রশিল্পী ডাক্তার এস ইয়াসমিন রোজলিন, রবীন্দ্র গবেষক ও লেখিকা ডক্টর মুকুল চক্রবর্তী, নজরুল গবেষক ও লেখিকা শিক্ষিকা দিপা দাস প্রমূখ।
রানু রায় তার বক্তব্যে নারীদের এগিয়ে যাবার কথা বলেন, সুরক্ষা উন্নয়ন ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন। বক্তৃতা রাখেন দুই বাংলার কবি আরণ্যক বসু, কবি ও সাংবাদিক বরুণ চক্রবর্তী, কবি ও প্রাবন্ধিক ডাঃ সিরাজুল ইসলাম ঢালী।
আরণ্যক বসু তার বক্তব্যে নারী সম্মান ও উন্নয়নের কথা বলেন। তিনি আরো বলেন দেশ জাতির কথা, সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করার কথা জানান। তিনি ইরানে ১৭০ জন ছাত্রীকে নিঃশেষ করে দেওয়ার কারণে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে নারীদের অনেক গুণের কথা বলেন তিনি। নারী দিবস উপলক্ষে উপস্থিত সকল নারীদেরকে নারিকেল তেল, সার্টিফিকেট ও ব্যাচ উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। সমাজসেবিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী ও সঙ্গীতা বসু রায় কে "বিশেষ নারী" পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাদেরকে বরণ করে নেন কনিকা রায় চৌধুরী এবং তিনি একটি নৃত্য পরিবেশন করেন। কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন ডাক্তার এস ইয়াসমিন রোজলিন, প্রত্যুষা চক্রবর্তী, কবি কৌশিক গাঙ্গুলী, প্রজ্ঞা পারিজাত প্রমূখ। রিনা পাল একটি সুন্দর সংগীত পরিবেশন করেন।
কবিতা পাঠে বিশেষ প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হন ডাক্তার এস ইয়াসমিন রোজলিন। সকল নারীদের উন্নতি ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে পুরুষের হাত থাকে, নারী নরকে এবং নর নারীকে এগিয়ে দিয়ে সাফল্য আনে, এ কথা বক্তৃতায় রাখেন অধ্যাপক এস এন ঘোষ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কবি ও লেখক সৌমিত্র সেনগুপ্ত, কবি ও সাংবাদিক শম্পা সেনগুপ্ত, কবি ও লেখিকা সোমা দাস প্রমূখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি ও লেখিকা রিয়া রায়।
"নারী দিবস দিচ্ছে ডাক নারীর সম্মান অটুট থাক" এই বার্তা দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান অনুষ্ঠানের আয়োজকরা।