হুইলচেয়ারেই গড়লেন ইতিহাস: সব বাধা অতিক্রম করে UPSC-তে ৪৮৩তম স্থান পেলেন কেরালার অথিরা সুগতন

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 h ago
অথিরা সুগতন
অথিরা সুগতন
 
আওয়াজ – দ্য ভয়েস ব্যুরো

২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া এক সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (BDS) কোর্সে পড়াশোনা করা অথিরা সুগতনকে হুইলচেয়ারের জীবন মেনে নিতে হয়। শুধু তাই নয়, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে স্মৃতিশক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলেন। এমন পরিস্থিতি অন্য যেকোনো মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে পারত। কিন্তু অথিরা সব বাধার বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর দুঃখ ও হারানোর এই গল্পটিকে অসামরিক সেবার স্বপ্ন পূরণের এক সোপানে পরিণত করেন।শুক্রবার যখন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল ঘোষণা করা হয়, তখন অথিরা ৪৮৩তম স্থান অর্জন করেন। এটি ছিল তাঁর চতুর্থ প্রচেষ্টা।কেরালার কোঝিকোড়র বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী অথিরা ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেঙ্গালুরুতে এক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। তখন তিনি পড়াশোনা করছিলেন। কয়েক মাস চিকিৎসার পর তিনি কোঝিকোড়ে ফিরে আসেন। 

তিনি বলেন,“দুই বছর ধরে আমি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি যে বিডিএস পড়ছিলাম, সেটাও ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার পরে ধীরে ধীরে আমার স্মৃতিশক্তি ফিরে আসে এবং আমি আমার পড়াশোনা সম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিই।আমি আবার বেঙ্গালুরুর সেই কলেজে ফিরে যাই, যেখানে আমার পরিবারের লোকেরা আমার যত্ন নেওয়ার জন্য একজন পরিচারিকা (কেয়ারটেকার)-এর ব্যবস্থা করেছিলেন। আমি প্রথম তিন বছরের পড়াশোনা ভুলে গিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেখান থেকে ছেড়ে দিয়েছিলাম সেখান থেকেই আবার শুরু করি এবং কোর্সটি সম্পূর্ণ করি।”

তিনি বলেন,“দুই বছর ধরে আমি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি যে বিডিএস পড়ছিলাম, সেটাও ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার পরে ধীরে ধীরে আমার স্মৃতিশক্তি ফিরে আসে এবং আমি আমার পড়াশোনা সম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিই।আমি আবার বেঙ্গালুরুর সেই কলেজে ফিরে যাই, যেখানে আমার পরিবারের লোকেরা আমার যত্ন নেওয়ার জন্য একজন পরিচারিকা (কেয়ারটেকার)-এর ব্যবস্থা করেছিলেন। আমি প্রথম তিন বছরের পড়াশোনা ভুলে গিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেখান থেকে ছেড়ে দিয়েছিলাম সেখান থেকেই আবার শুরু করি এবং কোর্সটি সম্পূর্ণ করি।”

কেরালার অথিরা সুগতন পরিবারের সঙ্গে

এরপর জীবনের বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে ২০২০ সালে, যখন অথিরা কোঝিকোড়ে ফিরে আসেন এবং বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের জন্য কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)-তে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দেন।তিনি বলেন, “সেই সময় ছিল কোভিড-১৯-এর সময়। আমার মতো বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের সমস্যা ও অসুবিধাগুলো আমি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছিলাম। বড় পরিসরে কাজ করার আমার একটি স্বপ্ন ছিল এবং আমি সমাজের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম। সেই ভাবনাই আমাকে অসামরিক সেবার কথা ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছিল।”

এরপর অথিরা তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত ‘অ্যাবসলিউট আইএএস একাডেমি’ (Absolute IAS Academy)-তে যোগ দেন। ইউপিএসসি উত্তীর্ণ হতে চাওয়া শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এই একাডেমির ‘বাটারফ্লাই’(Butterfly) নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি ছিল। মালয়ালম ভাষাকে ঐচ্ছিক বিষয় (optional subject) হিসেবে নিয়ে অথিরা অনলাইনে ক্লাস করতেন। মাঝে মাঝে তিনি তাঁর বাবা-মা এবং মিনি নামের সহায়িকার সঙ্গে তিরুবনন্তপুরমে যেতেন। তাঁর বাবা-মা দুজনেই পেশায় এলআইসি (LIC) এজেন্ট।

সামনের পথটি সহজ ছিল না, কিন্তু অথিরা তাঁর ছোট বোন আনাঘার কাছ থেকে বড় সহায়তা পেয়েছিলেন। তখন বি.এসসি মনোবিজ্ঞান-এর ছাত্রী আনাঘা মাঝপথেই সেই ডিগ্রি কোর্স ছেড়ে দিয়ে বি.এসসি নার্সিং পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তিনি বোনের যত্ন নিতে পারেন। আনাঘা সম্প্রতি এই কোর্সটি সম্পূর্ণ করেছেন।

অথিরা বলেন, “আমি আমার বোনের কাছে ঋণী। তার ত্যাগ ও নিষ্ঠাই আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ইউপিএসসি সাক্ষাৎকারে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু কে। আমি বলেছিলাম, আমার বোনই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।”

একজন আইএএস কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন লালন করা অথিরা বলেন, যদি এবার তিনি যোগ্যতা অর্জন করতে না পারতেন, তাহলে আবারও চেষ্টা করতেন। তিনি বলেন,“এই দুর্ঘটনা আমার ভেতরের সাহসী মানুষটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বড় স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে হুইলচেয়ারের জীবন কখনোই আমার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।”