“বাংলা ভাঙার চক্রান্ত চলবে না”—গ্যাসের দাম ও ভোটার তালিকা নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মমতার

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
কড়া ভাষায় কেন্দ্রের বিরোধিতা করলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কড়া ভাষায় কেন্দ্রের বিরোধিতা করলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, কেরোসিনের কোটা কমানো এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসবের মাধ্যমে “বাংলা ভাঙার” চেষ্টা চলছে।মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এলপিজি গ্যাসের দাম আবার বেড়েছে এবং নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন গ্যাস বুক করতে হলে ২১ দিন আগে থেকে বুকিং করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চরম সমস্যার সৃষ্টি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গ্যাসের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। এখন ২১ দিন আগে থেকে গ্যাস বুক করতে হবে। যদি বাড়ির গ্যাস শেষ হয়ে যায়, তাহলে ওই ২১ দিন মানুষ কী করবে? কী খাবে? আপনারা কি বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেবেন?”তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিনই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। এমনকি কেরোসিনের কোটাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।”
 

এই প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনেক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
 
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কারণেই কি আপনারা ভোটারদের নাম মুছে দিতে চান? বাংলাকে ভাঙার জন্য? অন্য কেউ আপনাদের ভয় পেতে পারে, কিন্তু আমরা ভয় পাই না। আমরা সবকিছু সামনে আনব।”এই ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাকও দিয়েছেন তিনি। রবিবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, কেরোসিনের ঘাটতি এবং SIR প্রক্রিয়ায় মহিলাদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ মিছিল করার ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
 
তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রের একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে, যাকে তিনি “ভাঙ বাংলা” পরিকল্পনা বলে উল্লেখ করেন। তবে এই পরিকল্পনা সফল হবে না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাকে ভাঙার একটা পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু সেটা পরিকল্পনাতেই থেকে যাবে, সফল হবে না। আগে এপস্টাইনের বিষয়টি সামলান, তারপর বাংলার দিকে তাকান।”
 
এদিকে অনুষ্ঠানে তিনি রাজ্য সরকারের দুটি নতুন কল্যাণমূলক প্রকল্পেরও ঘোষণা করেন। ‘বাংলার যুব সাথী’ এবং ‘ভূমিহীন ক্ষেত মজুর’ নামে এই দুটি প্রকল্প মূলত আগামী এপ্রিল মাস থেকে চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বার্থে তা অবিলম্বে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বাজেটে দুটি প্রকল্প ঘোষণা করেছিলাম—বাংলার যুব সাথী এবং ভূমিহীন ক্ষেত মজুর। এই দুটি প্রকল্প এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজ থেকেই তা শুরু করা হবে।”
তিনি জানান, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে মূলত পরিযায়ী শ্রমিক ও পাট শিল্পের শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। এতে প্রায় ১০ লক্ষ শ্রমিক উপকৃত হবেন বলে রাজ্য সরকার আশা করছে।
 
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি পরিযায়ী শ্রমিকরা আগ্রহী হন, আমরা তাদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করব। একইভাবে পাট শিল্পের শ্রমিকরাও এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন। মোট প্রায় ১০ লক্ষ শ্রমিক এর আওতায় আসবেন।”রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে নতুন দুটি প্রকল্প চালুর ঘোষণা সাধারণ মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা বলেও মনে করা হচ্ছে।