গোসাবায় তৃণমূল নেতাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ: শিশুদের জিম্মি করে মায়েদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে সরব স্থানীয়রা
দেবকিশোর চক্রবর্তী, গোসাবা
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের গোসাবায় এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত সুবিদ আলি ঢালি, যিনি স্থানীয় মহলে ‘ঝোড়ো’ নামে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে শিশুদের জিম্মি করে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন, শারীরিক হেনস্তা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন অভিযুক্ত। অভিযোগ, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জিম্মি করে তাঁদের মায়েদের জোরপূর্বক বিভিন্ন আসরে নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখানে অশালীনভাবে নাচতে বাধ্য করা হতো। পাশাপাশি যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগও সামনে এসেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি, মারধর এবং সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। সেই কারণেই দীর্ঘদিন বহু পরিবার প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেনি। সম্প্রতি কয়েকজন নির্যাতিত ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ সামনে আনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অভিযুক্ত সুবিদ আলি ঢালির আর্থিক উত্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের দাবি, একসময় মুরগি ও ছাগল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তাঁর নামে বা পরিবারের দখলে রয়েছে বিপুল সম্পত্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, গোসাবায় বিস্তীর্ণ জমির ওপর বাংলো, খামারবাড়ি, মেছোভেড়ি এবং কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। তবে এই সম্পদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এতদিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের জিম্মি করা, যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও একই গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।