‘এ তো ছোট বিরাট কোহলি!’, ৯ বছর বয়সেই বড়দের ‘রকেট গতির’ বলকেও অবলীলায় মাঠের বাইরে পাঠায় এই ‘বিস্ময় বালক’
তরুণ নন্দী / কলকাতা
বাইশ গজে ব্যাট হাতে দাঁড়ালেই মাঠে তখন সকলের একটাই কথা, ‘এ তো পুরো বিরাট কোহলি’। মাত্র নয় বছর বয়সেই ক্রিকেটের ব্যাকারণ মেনে মারকাটারি ব্যাটিং আর চোখের চাউনিতে যেন ফুটে ওঠে বিশ্বক্রিকেটের এক মহাতারকার অবয়ব। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া ও অশোকনগরের ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন মজে আছেন এক খুদে ক্রিকেটারের ব্যাটের জাদুতে। এই খুদে ক্রিকেটারের নাম সুতীর্থ সরকার।
স্থানীয় ক্রিকেট ময়দানে তাকে অবশ্য একডাকে সকলে চেনে ‘খুদে বিরাট’ নামে। বড়দের দ্রুত গতির বলকে নির্ভয়ে বাউন্ডারির ওপাড়ে পাঠানো তার যেন সহজাত খেলা। নিখুঁত কভার ড্রাইভ, স্ট্রেট ড্রাইভ কিংবা চোখের পলকে হুক শট, সবকিছুতেই সে যেন ক্ল্যাসিক।
ময়দানের গুঞ্জন থেকে শোনা যায়, সুতীর্থর এই খেলার নেপথ্যে রয়েছে গুরু-শিষ্যের এক অদ্ভুত রসায়ন। মাত্র তিন বছর বয়সে হাবড়া ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে বাংলার প্রখ্যাত কোচ উদয়শঙ্কর দাসের হাত ধরে তার ক্রিকেটে হাতেখড়ি। প্রথম দিন কোচ নাম জিজ্ঞেস করতেই আধো-আধো গলায় ছোট্ট শিশুটি বলেছিল, আমি বিরাট কোহলি। ব্যাস, ওই কথা শুনেই সেই অবোধ বালকের চোখের স্বপ্নকে নিজের বুকে ধারণ করেছিলেন কোচ উদয়শঙ্কর বাবু।
রোদ, বৃষ্টি বা ঠান্ডা, বিগত ছয় বছর ধরে মাঠের পর মাঠ ঘাম ঝরিয়ে সুতীর্থকে হিরের মতো ঘষে-মেজে ক্ল্যাসিক স্টাইলের ব্যাটার তৈরি করছেন তিনি। কোচের এই অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিজ্ঞানসম্মত কঠোর অনুশীলনের দৌলতে আজ ৯ বছরের সুতীর্থকে বড়দের সঙ্গে সমতালে লড়াই করার স্পর্ধা জুগিয়েছে।
সুতীর্থ সরকার
মাঠে সুতীর্থর নামলেই উন্মাদনা তৈরি হয়। দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রথিতযশা জাতীয় স্তরের ক্রীড়া নির্বাচক পার্থ দাশগুপ্তও তার ব্যাটিং দেখে মন্ত্রমুগ্ধ। তিনি জানান, এই বয়সে সাধারণত শিশুরা আড়াআড়ি ব্যাটে খেলে, কিন্তু সুতীর্থ বলকে একেবারে চোখের নিচে রেখে নিখুঁত সোজা ব্যাটে খেলে যাচ্ছে। যা বড় বড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সহজাত গুণ ধরে নেওয়া হয়।
ছোট সুতীর্থ হয়ত ক্রিকেট বিশ্বের অত নিয়ম কানুন জানেনা, তবুও তার একমাত্র লক্ষ্য একদিন নীল জার্সি গায়ে চাপিয়ে দেশের হয়ে মাঠ কাঁপানো। কোচের কঠোর প্রশিক্ষণের সঙ্গে নিজের অদম্য জেদকে সঙ্গী করে যেভাবে এই খুদে ব্যাটার এগিয়ে চলেছে, তাতে বাংলার ক্রিকেট মহল নতুন আশার আলো দেখছে।
অশোকনগরের এই মাঠ থেকেই হয়তো তৈরি হচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটের আগামী দিনের এক প্রতিভা। তবে এটুকু পরিষ্কার সুতীর্থকে নিয়ে যে ক্রিকেটপ্রমীরা স্বপ্ন দেখছেন তা স্পষ্ট বোঝা যায় মাঠ দর্শকের উপস্থিতি দেখে।