মাত্র ৫ মাসেই বিশ্বরেকর্ড! খানাকুলের খুদে ইনায়া আফরোজের কীর্তিতে গর্বিত গোটা বাংলা, ডাকযোগে এসেছে রেকর্ডের শংসাপত্র ও মেডেল

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 6 h ago
মাত্র ৫ মাসেই বিশ্বরেকর্ড! খানাকুলের খুদে ইনায়া আফরোজের কীর্তিতে গর্বিত গোটা বাংলা, ডাকযোগে এসেছে রেকর্ডের শংসাপত্র ও মেডেল
মাত্র ৫ মাসেই বিশ্বরেকর্ড! খানাকুলের খুদে ইনায়া আফরোজের কীর্তিতে গর্বিত গোটা বাংলা, ডাকযোগে এসেছে রেকর্ডের শংসাপত্র ও মেডেল
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

বয়স মাত্র ৫ মাস ২১ দিন। এই বয়সেই হুগলির ছোট্ট ইনায়া আফরোজ ১২টি ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ফ্ল্যাশ কার্ড চিনে ‘বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ নাম তুলে ফেলল। আর এই খবরে পরিবার তো বটেই গোটা বাংলার মানুষের তাকে নিয়ে গর্ব বোধ হচ্ছে। বলতে গেলে সবে কয়েক মাস হল ইয়ানা পৃথিবীর আলো দেখেছে। এখনও ঠিক করে কথাও বলতে পারেনা। নিজের ছোট্ট পায়ে হাঁটতেও শেখেনি। অথচ একের পর এক ছবি চিনে তাক লাগিয়ে দিল হুগলির খানাকুলের এই একরত্তি মেয়ে।

বিশ্বরেকর্ডে তার নাম উঠতেই আনন্দে ভাসছে পরিবার থেকে প্রতিবেশীরা। খুশির হাওয়া বইছে গোটা এলাকায়। ছোট্ট ইনায়ার সাফল্যের এই খবর শুনে অনেকেই বলছেন, শৈশবের প্রতিটি মুহূর্তেই লুকিয়ে থাকতে পারে নতুন কিছু শেখার সম্ভাবনা।
 

হুগলির খানাকুলের পোল-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাইবোনা উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ইনায়া আফরোজ। মাত্র পাঁচ মাস ২১ দিন বয়সে ১২টি সাদা-কালো ফ্ল্যাশ কার্ড শনাক্ত করে রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। পরিবারের দাবি, ‘ইয়াংগেস্ট বেবি আইডেন্টিফাই ১২ ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ফ্ল্যাশ কার্ড’ বিভাগে তার এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি মিলেছে ‘বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ।
 
মেয়ের এই কৃতিত্বে ইতিমধ্যেই ডাকযোগে বাড়িতে পৌঁছেছে শংসাপত্র ও মেডেল। পরিবার সূত্রে খবর, মেয়ের এইটুকু বয়সে এমন সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তার মায়ের নিরন্তর চেষ্টা। জানা গেছে, ইনায়ার বয়স মাত্র তিন মাস যখন, তখন থেকেই মা সাবনুর সুলতানা মেয়েকে বিভিন্ন ছবি চেনানোর চেষ্টা চালাতেন। কখনও পশুপাখি, কখনও ছাতা, কখনও আবার ঘোড়ার ছবি, সাদা-কালো ফ্ল্যাশ কার্ডের মাধ্যমে ছোট্ট মেয়েকে নানা ছবি দেখানো হত। আর এই পদ্ধতির মাধ্যমে মেয়ের আগ্রহ বাড়ত। যা দেখে উৎসাহ আরও বেড়ে যায় মায়ের। ধীরে ধীরে সেই চর্চার নানা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে রেকর্ডের স্বীকৃতির জন্য পাঠানো হয়।
 
ইনায়া আফরোজ
 
আর সেখান থেকেই আসে এতবড় সুখবরটি। মাত্র কয়েক মাসের শিশুর এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি পৌঁছে যায় পরিবারের হাতে। ইনায়ার বাবা শেখ নাজেস আফরোজ কাজের সূত্রে কেরলে থাকেন। দূরে থেকেও মেয়ের এই সাফল্যে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
 
পরিবারের দাবি, কয়েক মাস যেতে না যেতেই মেয়ের মধ্যে শেখার প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করেছেন তাঁরা। মায়ের নিয়মিত অনুশীলন ও উৎসাহই এই সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করছে পরিবার থেকে পরিজনেরা। খুব শীঘ্রই বাড়ি ফিরে ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছাও রয়েছে বাবা শেখ নাজেস আফরোজের।
 
ইনায়া আফরোজ
 
মনোবিদদের মতে, ধৈর্য আর সন্তানের ছোট ছোট শেখার মুহূর্তকে গুরুত্ব দেওয়ার দেওয়াটাই হল বাবামায়ের কর্তব্য। কারণ, শিশুর বেড়ে ওঠার এই প্রথম পর্বে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ দেখা যায় । পরিবারের ভালোবাসা ও বয়সোপযোগী পরিচিতির মধ্য দিয়েই তৈরি হয় শেখার পরিবেশ। যা বাস্তবে করে দেখিয়েছে পাঁচ মাসের ইয়ানা। বলা ভালো, খানাকুলের এই একরত্তি যেন দেখিয়ে দিল, সাফল্যের পথ শুরু হয় একেবারে ছোট্ট পদক্ষেপ থেকে। আর সেই পদক্ষেপের পাশে যদি থাকে পরিবারের ভালোবাসা ও উৎসাহ, তা হলে শিশুর বেড়ে ওঠার পথ হয়ে উঠতে পারে আরও সম্ভাবনাময়।


শেহতীয়া খবৰ