গাইঘাটায় ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনের মামলায় এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যু, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 55 m ago
গাইঘাটায় ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনের মামলায় এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যু, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
গাইঘাটায় ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনের মামলায় এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যু, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

কলকাতাঃ
 
বারুইপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি গাইঘাটায়! ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা, পাল্টা গুলিতে মৃত্যু মূল অভিযুক্তের। দুই পুলিশকর্মীও আহত বলে দাবি পুলিশের। তবে কী পরিস্থিতিতে অভিযুক্তের হাতে পুলিশের সার্ভিস রিভলভার গেল এবং ঠিক কীভাবে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের দাবি, সোমবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয়। এরপর পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। তাতেই গুলিবিদ্ধ হয় প্রহ্লাদ।

পুলিশ সূত্রে আরও দাবি, অভিযুক্তের গুলিতে দুই পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক জন প্রাণ বাঁচাতে পাশের খালে ঝাঁপ দেন বলেও জানা গিয়েছে। গুলিবিদ্ধ প্রহ্লাদকে রক্তাক্ত অবস্থায় বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

তবে এই ঘটনার পর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় কীভাবে অভিযুক্ত পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেল? ঠিক কোন পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? পুলিশের দাবি ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ যাচাই করতে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

এদিকে, অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।গাইঘাটার ঘটনার সঙ্গে চলতি বছরের জুলাইয়ে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকেও ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। পুলিশের দাবি ছিল, সেখানেও এক পুলিশকর্মীর রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় তার।

পরপর দুই ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা সামনে আসায় পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা, অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় সতর্কতা এবং গোটা অভিযানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে দুটি ঘটনার পরিস্থিতি ও পরিস্থিতিগত পার্থক্য খতিয়ে দেখা জরুরি।

ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে যেমন দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার জরুরি, তেমনই পুলিশের হেফাজতে বা অভিযানের সময় কোনও অভিযুক্তের মৃত্যু হলে তার কারণ ও পরিস্থিতির স্বচ্ছ তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ। গাইঘাটার ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা নির্ধারণে ময়নাতদন্ত, ঘটনাস্থলের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।


শেহতীয়া খবৰ