মায়ের গমন ২০২৬: ত্রিপুরার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির টানে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা, রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা

Story by  Nurul Haque | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 19 h ago
মায়ের গমন ২০২৬: ত্রিপুরার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির টানে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা, রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা
মায়ের গমন ২০২৬: ত্রিপুরার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির টানে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা, রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা

নূরুল হক, আগরতলা,

 ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে আগরতলায় আয়োজিত ‘মায়ের গমন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রত্যক্ষ করলেন বিদেশি প্রতিনিধিরা। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি ত্রিপুরার ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
 
শুক্রবার আগরতলার তুলসীবতী স্কুলের সামনে অনুষ্ঠিত মায়ের গমন উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান ফেডারেশনের কলকাতাস্থ কনসাল জেনারেল মাক্সিম খোজলভ (Maxim Khozlov) ও তাঁর স্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ব্র্যাড ক্রোগার (Brad Kroeger)।‘মায়ের গমন’ অনুষ্ঠানে তাদের সংবর্ধনা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক মানিক সাহা সহ পর্যটন মন্ত্রী এবং মেয়র। কার্নিভাল অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থেকে তাঁরা রাজ্যের লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের যে সম্মিলিত উপস্থাপনা দেখা যায়, তা বিদেশি প্রতিনিধিদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিদেশি প্রতিনিধিদের সফরে লিয়াসন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সিনিয়র ইনফরমেশন অফিসার নবেন্দু চৌধুরী ও মিঠন দত্ত।
 
মায়ের গমন কার্নিভাল মঞ্চে বিদেশি অতিথিদের সম্মান জানাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী
 
ত্রিপুরা সফরকালে প্রতিনিধিরা রাজ্যের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক আকর্ষণ ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে গিয়ে পূজার্চনায় অংশ নেন। পাশাপাশি সিপাহিজলা অভয়ারণ্য, নীরমহল, টেট মিউজিয়াম ও অ্যালবার্ট এক্কা পার্ক-সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন তাঁরা। এই সফরের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার ধর্মীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস, স্থাপত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান বিদেশি অতিথিরা। রাজ্য সরকারের আতিথেয়তা ও আয়োজনের প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও ত্রিপুরায় এসে রাজ্যের সবুজ প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তাঁরা।
 
এ বছরের ‘মায়ের গমন’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধি, ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব কে. কে. নিরালা এবং সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ভাইস চ্যান্সেলর সন্তোষ আজমিরা-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘মায়ের গমন’ কেবল দুর্গাপূজার প্রতিমা নিরঞ্জন-পরবর্তী একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং ত্রিপুরার ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও সামাজিক সম্প্রীতিকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে। বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এই আয়োজনের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
 
তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরে আধিকারিকদের সঙ্গে ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে বিদেশী অতিথিরা
 
ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে রাজ্যের সংস্কৃতি ও পর্যটনকে একই মঞ্চে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবেগ, লোকসংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে ত্রিপুরাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করার ক্ষেত্রে ‘মায়ের গমন ২০২৬’ একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


অধিক পঢ়ক