মৃত্যুর শোকেও সম্প্রীতির আলো! হিন্দু যুবকের শেষকৃত্যে চাঁদা তুলে পাশে দাঁড়ালেন মুসলিম প্রতিবেশীরা, অনন্য নজির মুর্শিদাবাদে
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 6 h ago
মৃত্যুর শোকেও সম্প্রীতির আলো! হিন্দু যুবকের শেষকৃত্যে চাঁদা তুলে পাশে দাঁড়ালেন মুসলিম প্রতিবেশীরা, অনন্য নজির মুর্শিদাবাদে
তরুণ নন্দী / কলকাতা
মৃত্যু হয়েছে গ্রামের তরতাজা হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবকের। অসহায় পরিবারের দুঃসময়ে ধর্মের বেড়াজাল ভুলে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলেন প্রতিবেশীরা সকলেই। হিন্দু যুবকের মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলেন এলাকার মুসলিম যুবকেরা। মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রামের বেলতলায় এই ঘটনা যেন আরও একবার সমাজকে মনে করালো, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ।
প্রিয়জনের চলে যাওয়ার সংবাদ নিভিয়ে দেয় কত স্বপ্ন। ঘিরে ধরে একরাশ শূন্যতা। কিন্তু শোকের সেই অন্ধকারেও নবগ্রামে যেন জ্বলে ওঠল মানবতার আলো। ধর্মের বিভেদ আর সামাজিক দূরত্বকে পেরিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াল মানুষ। মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের নারকেলবাগান সংলগ্ন বেলতলার ঘটনা এক হৃদয়ছোঁয়া নজির সৃষ্টি করল বাংলায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মাত্র ২৩ বছর বয়সেই চিরবিদায় নিলেন টিঙ্কু হাজরা। দীর্ঘদিন আগে বাইক দুর্ঘটনা ঘটে তাঁর। এই দুর্ঘটনার পর থেকেই বাড়িতে থাকতেন তিনি। কয়েকদিন ধরে পেটের অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরিস্থিতি বাড়াবাড়ি হতেই গ্রামের মানুষ তাঁকে ভর্তি করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় টিঙ্কু হাজরার। এক তরতাজা যুবকের এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নামে পরিবার সহ গোটা এলাকায়।
টিঙ্কুর মৃত্যুর শোকের পাশাপাশি এক কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হয় তার পরিবার। টিঙ্কুর বাবা নেই। সংসারে রয়েছেন শুধু তাঁর মা। সীমিত সামর্থ্যে কোনও রকমে দিন চলত তাঁদের। যে ছেলেকে ঘিরে হয়তো বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকু জড়িয়ে ছিল, সেই ছেলের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে অসহায় মায়ের মনের অবস্থা কল্পনা করাও কঠিন। শোকের এই সময়ে আর্থিক অনটন যেন তাঁর কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
হিন্দু যুবকের শেষকৃত্যে চাঁদা তুলছেন মুসলিম প্রতিবেশীরা
অভাবের সংসারে শেষকৃত্যের আয়োজন যখন থমকে যাও য়ার উপক্রম ঠিক তখনই মানবতার হাত বাড়ালেন এলাকার মুসলিম যুবকেরা। তাঁরাই গ্রামে চাঁদা তুলে টিঙ্কুর শেষকৃত্যের আয়োজন করলেন। সকলের উদার মনোভাব দেখাতেই এই অসহায় পরিবার যেন কঠিন সময়ে পেল একটু স্বস্তির অক্সিজেন। কারণ, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর অর্থ এই কঠিন সময়ে তাঁরা একা নন।
ধর্ম আলাদা হতে পারে, প্রার্থনার ভাষা আলাদা হতে পারে, কিন্তু চোখের জল আর প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা কখনও আলাদা হয় না। টিঙ্কুর শেষযাত্রাকে ঘিরে নবগ্রামের এই ঘটনা সেই চিরন্তন সত্যকেই যেন আরও একবার সামনে এনে দিল। আজ যখন নানা ঘটনায় ধর্মের পরিচয়কে সামনে রেখে বিভেদের দেওয়াল তোলার ছবি দেখা যায়, তখন বেলতলার এই মানবিক উদ্যোগ অন্য বার্তা দেয়।
হিন্দু যুবকের শেষকৃত্যে চাঁদা তুলছেন মুসলিম প্রতিবেশীরা
সম্প্রীতি হল সেই হাত, যা বিপদের দিনে এগিয়ে আসে। সেই প্রতিবেশী, যিনি অন্যের দুঃখকে নিজের দুঃখ বলে মনে করেন। সেই মানুষগুলো, যাঁরা কোনও প্রতিদানের আশা না করেই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। টিঙ্কু হাজরা আর ফিরবেন না। কিন্তু এই দুঃসময়ে ধর্মের দোহাই না দিয়ে প্রতিবেশীরা যেভাবে এগিয়ে এলেন তাতে এক অসহায় মাকে বার্তা দেওয়া হল, ছেলেকে হারিয়েও তিনি একেবারে একা নন, তাঁর পাশে রয়েছেন এলাকার সব মানুষ।