রঞ্জি ট্রফির তৃতীয় রাউন্ড শেষে দুরন্ত পারফরমেন্স করলেন পাঁচ জন মুসলিম ক্রিকেটার
শান্তিপ্রিয় রায় চৌধুরী
তৌসিফ উদ্দিন মন্ডল (রেলওয়ে):
এবার রঞ্জি ট্রফিতে রেলওয়েজের তৌফিক উদ্দিন মন্ডল অলরাউন্ডারের ভূমিকায় দারুণ খেলছেন। রঞ্জি ট্রফির এলিট গ্রুপ 'ডি'-তে রেলওয়েজ দলের হয়ে তৌফিক উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ব্যাটিং পারফরমেন্সে রেলওয়ে ম্যাচটি ড্র করেছিল।
পরের ম্যাচে রেলওয়েজ দল তামিলনাড়ুর কাছে পরাজিত হলেও এই ম্যাচে বল হাতে তৌফিকের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। তামিলনাড়ুর প্রথম ইনিংসে তিনি ৪৮ রানে ৪ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রানে ৪ উইকেট নেন। ম্যাচে মোট ৮ উইকেট শিকার করেন। তবে তার এই লড়াকু বোলিং সত্ত্বেও রেলওয়েজ ম্যাচটি বাঁচাতে পারেনি।
শামস মুলানি মুম্বাই অলরাউন্ডার
শামস মুলানি (মুম্বাই)
মুম্বাইয়ের বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার ও স্পিনার শামস মুলানি ঘরোয়া ক্রিকেট এবং ইন্ডিয়া 'এ' দলের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। চলতি রঞ্জি ট্রফি এবং অস্ট্রেলিয়া 'এ'-এর বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে তার পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
২০২৬ সালের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তার প্রতিটি ইনিংস ও বোলিং পারফরম্যান্স ছিল এরকম-
** রঞ্জি ট্রফি ২০২৬-২৭ মরসুমে হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ৫২ রানে ২ উইকেট নেন।
** চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে অলরাউন্ডারের পারফরম্যান্স করে বোলিংয়ে ৬৯ রানে ৩ উইকেট ও ব্যাটিং করে ৩৯ রান করেন।
** ইন্ডিয়া 'এ' বনাম অস্ট্রেলিয়া 'এ' চার দিনের অনানুষ্ঠানিক টেস্ট সিরিজ শামস মুলানি ভারতীয় 'এ' দলের জয়ে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
২য় টেস্ট ম্যাচে বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৯২ রানে ৩ উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ে ৭* রান এবং ২৯ রান করেন।আর ১ম টেস্ট ম্যাচে বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৬৭ রানে ৪ উইকেট নেন। তার স্পিন জাদুতে অস্ট্রেলিয়া কুপোকাত হয় এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রানে ৩ উইকেট নেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে মোট ৭ উইকেট নেন।
শাহবাজ আহমেদ বাংলার অলরাউন্ডার
** দলীপ ট্রফি:
ওয়েস্ট জোন বনাম নর্থ জোন:
বোলিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৮ রানে চার উইকেট নেন। এরপর ব্যাটিং করে প্রথম ইনিংসে ৫২ করেন।এছাড়াও, ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি টি-২০ মুম্বাই লিগে আকাশ টাইগার্স এমডব্লিউএস-এর হয়ে ধারাবাহিকভাবে উইকেট শিকার করেছিলেন। তবে ২০২৬ সালের আইপিএল নিলামে দল না পাওয়ায় আইপিএলে তাকে খেলতে দেখা যায়নি। সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে লাল বলের ক্রিকেটে বল এবং ব্যাট হাতে শামস মুলানি অসাধারণ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।
আব্দুল সামাদ (জম্মু-কাশ্মীর):
২০২৬ রঞ্জি ট্রফিতে জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাটসম্যান আব্দুল সামাদ চমৎকার পারফরম্যান্স করেছেন।
সর্বশেষ ও সেরা ইনিংস: বরোদার বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে ফলো-অন এড়াতে নেমে আব্দুল সামাদ ১৫২ বলে ১৪৩ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। এটি তার অষ্টম প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি।
গত মরসুমে জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম রঞ্জি ট্রফি জয়ী অভিযানে তিনি ১৫ ইনিংসে ৭৪৮ রান করেছিলেন (গড় ৫৭.৫৩), যেখানে ১টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফ সেঞ্চুরি ছিল। ফাইনালেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আব্দুল সামাদ জম্মু কাশ্মীরের ব্যাটসম্যান
মহম্মদ শামি (বাংলা):
চলতি ২০২৬-২৭ রঞ্জি ট্রফি মরশুমে বাংলার হয়ে খেলছেন অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসার মহম্মদ শামি এবং এখন পর্যন্ত খেলা দুটি ম্যাচে তিনি বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। চোট সারিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার পর থেকেই তিনি দারুণ ছন্দে রয়েছেন। চলতি মরশুমে এখন পর্যন্ত ২টি ম্যাচ খেলে তিনি মোট ১০টি উইকেট শিকার করেছেন। এই সময়ে তাঁর বোলিং গড় মাত্র ১৩.৪।
প্রথম রাউন্ডে দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে শামি মাত্র ৩০ রান খরচ করে ৪টি উইকেট নেন। এই ইনিংসে তিনি ১৭.৩ ওভার বল করে ৯টি মেডেন ওভার নিয়েছিলেন এবং তাঁর ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ১.৭১। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ২৯ রান দিয়ে ১টি উইকেট পান। ম্যাচে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা ছিল ৫টি।
এরপর তৃতীয় রাউন্ডে কেরালার বিরুদ্ধেও তিনি বল হাতে সমান কার্যকরী ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১১ ওভার বল করে মাত্র ৩৫ রান দিয়ে তিনি ৩টি উইকেট শিকার করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ ওভারে ৪০ রান খরচ করে তুলে নেন আরও ২টি উইকেট। এই ম্যাচেও তিনি দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ৫টি উইকেট পান এবং বাংলার জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। তার এই নিয়ন্ত্রিত ও বিধ্বংসী বোলিংয়ের ওপর ভর করে বাংলা দল চলতি টুর্নামেন্টে দারুণভাবে এগিয়ে চলেছে।
মদম্মদ শামি
শাহবাজ আহমেদ (বাংলা):
চলতি ২০২৬-২৭ রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদ ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন এবং বাংলার টানা তিনটি ম্যাচ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। দলীপ ট্রফিতে হাঁটুর চোট সারিয়ে ফিরে আসার পর, তিনি বল হাতে যেমন কৃপণ বোলিং করে উইকেট তুলেছেন, তেমনই চাপের মুখে গুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরিও করেছেন। রঞ্জি ট্রফির চলতি মরসুমে তাঁর প্রধান পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হল:
** কেরালা ম্যাচে তিনি 'প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ' নির্বাচিত হন। প্রথম ইনিংসে বাংলা যখন ১০৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন ৭ নম্বরে নেমে তিনি ২০৩ বলে ১২১ রানের একটি অনবদ্য সেঞ্চুরি করে দলকে ৩৫০ রানে পৌঁছে দেন। এরপর বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট (২/২২ এবং ২/১৯) শিকার করে বাংলার ২৮৭ রানের বড় জয়ে অবদান রাখেন।
** সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচটিতে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে না পারলেও বল হাতে স্পিন ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করেন। প্রথম ইনিংসে ৩৫ রানে ৪ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানে ৩ উইকেটসহ ম্যাচে মোট ৭টি উইকেট নেন তিনি। শাহবাজ আহমেদ নিজেই জানিয়েছেন যে চোট সারিয়ে ফিরে আসার পর বল এবং ব্যাট, উভয় বিভাগেই দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।