তিনসুকিয়ায় চিতাবাঘের সঙ্গে সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মুসলিম সম্প্রদায়ের সচেতনতা

Story by  Manoj Kumar Ojha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 h ago
তিনসুকিয়ায় চিতাবাঘের সঙ্গে সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত
তিনসুকিয়ায় চিতাবাঘের সঙ্গে সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত
 
মনোজ কুমার ওঝা / ডুমডুমা

দক্ষিণ অসমের তিনসুকিয়া জেলার ডিগবয়ের  নিকটবর্তী টিংরাই অসমীয়া গ্রাম নং ১-এ এক জোড়া চিতাবাঘের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে, বন্যপ্রাণীর প্রতি গ্রামবাসীদের দেখানো সহনশীলতা ও সংবেদনশীলতা একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সচেতনতা ও সহযোগিতা, বিশেষ করে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে, প্রকৃতি সংরক্ষণের এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

গত এক মাস ধরে টিংরাই অসমীয়া গ্রাম নং ১-এর ভেতরে ও আশেপাশে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী চিতাবাঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে চিতাবাঘের আক্রমণে গ্রামের দুটি পরিবারের তিনটি ছাগল মারা গেছে। তথাপি পোষ্য হারানোর পরেও স্থানীয় বাসিন্দারা চিতাবাঘ দুটির প্রতি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধপরায়ণতা দেখাননি।
 
 
 
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

বরং, গ্রামবাসীরা বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সংযম ও সহনশীলতা দেখিয়েছেন। দেশে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে প্রচুর সংঘাত রয়েছে। দেশে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে প্রচুর সংঘাত রয়েছে।

এই ঘটনাটি বৃহত্তর অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রতি সচেতনতা ও সংবেদনশীলতাকে তুলে ধরেছে। এলাকার বাসিন্দারা যেকোনো বিপন্ন বন্যপ্রাণীর বিষয়ে বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলকে খবর দিয়ে আসছেন।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের এরূপ সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন দপ্তরকে সময়মতো খবর দিলে বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করা যায় এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ ফারুক আলী দক্ষিণ অসমে একটি সাপ উদ্ধার করেছেন

ডিগবয়ের বনভূমি জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দিহিং-পাটকাই জাতীয় উদ্যানসহ এই অঞ্চলের বনভূমি বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। 

দিহিং-পাটকাইয়ের চিরহরিৎ ক্রান্তীয় বৃষ্টি-অরণ্য চিতাবাঘ, হাতি এবং বিভিন্ন প্রজাতির বানরসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। তবে, বন উজাড়, মানব বসতির সম্প্রসারণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ বন্যপ্রাণীদের ক্রমবর্ধমান জনবহুল এলাকার কাছাকাছি আসতে বাধ্য করেছে। 

মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাতের প্রকৃত কারণগুলো বোঝা অত্যন্ত জরুরি। বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কেও মানুষের সচেতন থাকা উচিত। আমাদের গ্রামগুলোতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

মারানের মতে, বন উজাড় এবং প্রকৃতির উপর মানুষের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপই বন্যপ্রাণীদের জনবসতির কাছাকাছি আসতে বাধ্য করেছে। এমন পরিস্থিতিতে, বন্যপ্রাণীদের শত্রু হিসেবে গণ্য না করে, তাদেরকে প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মেনে নেওয়াই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকৃতি সংরক্ষণে সকলকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "মানুষ প্রকৃতি থেকে এত সম্পদ আহরণ করেছে যে, এখন প্রকৃতি রক্ষার জন্য প্রতিদান দেওয়া আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।" 

অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বন্যপ্রাণীর প্রতি সহনশীলতা দেখানো এবং নিজের সুরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে যদি কোনো চিতাবাঘের উপস্থিতি আপনার নজরে আসে, তবে তার কাছে যাওয়া, তাকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা বা কোনোভাবেই উত্যক্ত করা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া, পোষা প্রাণীগুলোকে যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে রাখা এবং চিতাবাঘের আনাগোনা সম্পর্কে অবিলম্বে বন বিভাগকে জানানোও জরুরি।  

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

টিংরাই গ্রামের বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেবল বন বিভাগের একার দায়িত্ব নয়। এর জন্য স্থানীয় জনগণের সচেতনতা, সহানুভূতি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। এই ধরনের সহযোগিতা একটি সুস্থ সহাবস্থানের পথ প্রশস্ত করতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণ আসামের মতো অঞ্চলে, যেখানে মানুষ ও বন্যপ্রাণীকে একই পরিবেশে বসবাস করতে হয়।   

টিংরাইয়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে বৃহত্তর অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের, বন্যপ্রাণীর প্রতি প্রদর্শিত সংবেদনশীলতা প্রমাণ করে যে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মানবতা, সহনশীলতা এবং সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।  

শুধুমাত্র বন রক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমরা মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার দিকে অগ্রসর হতে পারি।


শেহতীয়া খবৰ