জাপানকে হারিয়ে ইতিহাস! এশিয়ান ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনা জিতলেন আলিশা চৌধুরী

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
আলিশা চৌধুরী
আলিশা চৌধুরী
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী

ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন তরুণ ক্যারাটেকা আলিশা চৌধুরী। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ২২তম এশিয়ান ক্যারাটে ফেডারেশন (এ কে এফ) সিনিয়র এশিয়ান ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের –৫৫ কেজি কুমিতে বিভাগে জাপানের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রিনা কোদোকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণপদক জয় করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ান সিনিয়র ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনার পদক জিতে নজির গড়লেন আলিশা। ভারতীয় ক্যারাটের ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত।
 
ফাইনাল ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। শুরু থেকেই দুই প্রতিযোগীর মধ্যে সমানে সমানে লড়াই চলে। জাপানের রিনা কোদো তাঁর দ্রুতগতির আক্রমণ এবং নিখুঁত কৌশলে আলিশাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভারতীয় এই ক্যারাটেকা অসাধারণ ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও পাল্টা আক্রমণের দক্ষতা দেখিয়ে ম্যাচে ফিরে আসেন। শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
 

ফল ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বাসে লাফিয়ে ওঠেন আলিশা। তাঁর সেই আবেগঘন উদ্‌যাপনের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স এবং রেডিটে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানান। অনেকেই এই জয়কে ভারতীয় মার্শাল আর্টের ইতিহাসে এক নতুন সূচনা বলে অভিহিত করেছেন।
 
আলিশার এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলস্বরূপ তিনি আজ এশিয়ার সেরা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জর্জিয়ার তিবিলিসিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ক্যারাটে ওয়ান সিরিজ এ প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জিতে তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে ওই প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের ইতিহাস গড়েছিলেন। সেই সাফল্যের পর থেকেই ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় কৃতিত্ব অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করে এশিয়ার সেরার মুকুট মাথায় তুললেন আলিশা।
 
জাতীয় পর্যায়েও তাঁর সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। একাধিকবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি। কমনওয়েলথ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে একাধিক পদকও অর্জন করেছেন। তাঁর কোচদের মতে, আলিশার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর মানসিক দৃঢ়তা। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের পরিকল্পনা থেকে বিচ্যুত হন না। সেই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে এশিয়ার সেরার আসনে পৌঁছে দিয়েছে।
 
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর  ক্যারাটে ইন্ডিয়া অরগানাইজেশন (কে আই ও) আলিশাকে পাঁচ লক্ষ টাকার বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সাফল্য শুধু একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতীয় ক্যারাটের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। বহু বছর ধরে যে স্বপ্ন ভারতীয় ক্যারাটে পরিবার দেখছিল, আলিশা তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
 
ভারতে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কুস্তি কিংবা বক্সিংয়ের তুলনায় ক্যারাটে এখনও ততটা আলোচনায় আসে না। পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আর্থিক অনটন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগের অভাব সত্ত্বেও ভারতীয় ক্যারাটেকাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। সেই বাস্তবতার মধ্যেই আলিশার এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর এই স্বর্ণপদক ভবিষ্যতে ক্যারাটে খেলায় নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করবে এবং সরকারি ও বেসরকারি স্তরে এই খেলার প্রতি আরও বেশি বিনিয়োগের পথ খুলে দিতে পারে।
 
আলিশা চৌধুরী
 
আলিশার এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলস্বরূপ তিনি আজ এশিয়ার সেরা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জর্জিয়ার তিবিলিসিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ক্যারাটে ওয়ান সিরিজ এ প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জিতে তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে ওই প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের ইতিহাস গড়েছিলেন। সেই সাফল্যের পর থেকেই ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় কৃতিত্ব অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করে এশিয়ার সেরার মুকুট মাথায় তুললেন আলিশা।
 
জাতীয় পর্যায়েও তাঁর সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। একাধিকবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি। কমনওয়েলথ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে একাধিক পদকও অর্জন করেছেন। তাঁর কোচদের মতে, আলিশার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর মানসিক দৃঢ়তা। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের পরিকল্পনা থেকে বিচ্যুত হন না। সেই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে এশিয়ার সেরার আসনে পৌঁছে দিয়েছে।
 
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর  ক্যারাটে ইন্ডিয়া অরগানাইজেশন (কে আই ও) আলিশাকে পাঁচ লক্ষ টাকার বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সাফল্য শুধু একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতীয় ক্যারাটের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। বহু বছর ধরে যে স্বপ্ন ভারতীয় ক্যারাটে পরিবার দেখছিল, আলিশা তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
 
ভারতে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কুস্তি কিংবা বক্সিংয়ের তুলনায় ক্যারাটে এখনও ততটা আলোচনায় আসে না। পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আর্থিক অনটন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগের অভাব সত্ত্বেও ভারতীয় ক্যারাটেকাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। সেই বাস্তবতার মধ্যেই আলিশার এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর এই স্বর্ণপদক ভবিষ্যতে ক্যারাটে খেলায় নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করবে এবং সরকারি ও বেসরকারি স্তরে এই খেলার প্রতি আরও বেশি বিনিয়োগের পথ খুলে দিতে পারে।
 
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের মতো ক্যারাটে শক্তিধর দেশের খেলোয়াড়কে হারিয়ে স্বর্ণপদক জয় করা নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য বিরাট অর্জন। জাপান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব ক্যারাটের অন্যতম পরাশক্তি। সেই দেশের প্রতিনিধিকে ফাইনালে হারিয়ে আলিশা প্রমাণ করেছেন, ভারতীয় ক্যারাটেও এখন বিশ্বমানের প্রতিভা তৈরি হচ্ছে।
 
আলিশার এই জয়ের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছার বন্যা বইতে শুরু করেছে। ক্রীড়াবিদ, কোচ, প্রাক্তন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক এবং সাধারণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন, এই জয় শুধু একটি পদক নয়, বরং কোটি কোটি ভারতীয় তরুণ-তরুণীর স্বপ্নকে নতুন ডানা দিল।
 
এখন আলিশার লক্ষ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আরও বড় সাফল্য। আগামী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলিতে দেশের হয়ে আরও পদক জয়ের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতীয় ক্যারাটেকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আগামী দিনে তাঁর হাত ধরেই ভারত আরও বহু আন্তর্জাতিক সাফল্যের সাক্ষী হবে, এমনটাই বিশ্বাস ক্রীড়াপ্রেমীদের।
 
ভারতীয় ক্রীড়ার ইতিহাসে ২০২৬ সালের এই স্বর্ণজয় তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আলিশা চৌধুরীর এই জয় আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে, আর ভারতীয় ক্যারাটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁর নাম।


শেহতীয়া খবৰ