যে হাত দেশের সীমান্ত পাহারা দেয়, অতন্দ্র প্রহরায় শত্রুর বুকে ভয় ধরিয়ে দেয়, সেই হাতই এবার গোটা বিশ্বে ভারতের তেরঙা পতাকা উড়িয়ে দিল অনন্য দক্ষতায়। যোগাসনের কঠিনতম মুদ্রায় নিজেকে মেলে ধরতেই চমকে ওঠে বিশ্বম়ঞ্চে উপস্থিত সকলে। তিনি বিশ্বজিৎ পাল। পেশায় বিএসএফ(BSF) জওয়ান। গুজরাটের আহমেদাবাদে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI) আয়োজিত ১ম ওয়ার্ল্ড যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে অতীতের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জাপানকে পিছনে ফেলে পুরুষদের “হ্যান্ড ব্যালান্স ইন্ডিভিজুয়াল” ইভেন্টে সোনা ছিনিয়ে এনেছেন উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের এই বীর সন্তান।
মিশর, আমেরিকা, জাপানসহ বিশ্বের ৭৪টি দেশের সেরা প্রতিযোগীদের হারিয়ে বিশ্বজিতের এই বিরাট জয় আসলে গোটা ভারতের গর্ব। তবে তাঁর এই জার্নিটা কিন্তু অতটা সহজসাধ্য ছিল না।
একদিকে দেশের সীমান্ত রক্ষার মতো অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ পেশা সামলে বিশ্বমঞ্চের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা একপ্রকার অসম্ভব ছিল। কিন্তু বিশ্বজিৎবাবু নিজের সাফল্য দিয়ে প্রমাণ করলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে আকাশকেও ছোঁয়া যায়।
আসলে, ডিউটির ব্যস্ততার মধ্যেও একচুল কমতি হতে দেননি নিজের অনুশীলনে। যখনই একটু অবসর মিলেছে তখনই কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন। আজ তাঁর এই সোনা জয় গোটা বাংলা তো বটেই গর্ব অনুভব করছে গোটা ভারতবাসী।
বিশ্বজিৎ পাল
বিশ্বজিতের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লীর পাল পরিবার। ঘরের ছেলে বিশ্বজয় করে ফিরতেই গোটা অশোকনগর যেন অকাল দীপাবলিতে মেতে উঠেছে। খোদ অশোকনগরের বিধায়ক সুময় হীরা নিজের হাতে কৃতি জওয়ানকে সংবর্ধনা দেন। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, বিশ্বজিতের এই সাফল্য শুধু একটা মেডেল নয়, এটা আগামী প্রজন্মের কাছে একটা জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা।
প্রতিভা থাকলে অজুহাত দিয়ে নিজের স্বপ্নকে কখনো বিসর্জন দিতে নেই, তার বার্তা এদিন দিয়ে গেলেন বীর জওয়ান বিশ্বজিত পাল। তিনি বিশ্বাস করেন, জীবনে প্রতিকূলতা থাকলেও আত্মবিশ্বাস আর জেদ থাকলে বিশ্বজয় করা সম্ভব।
বিশ্বজিৎ পাল
জওয়ানের উর্দির নীচে লুকিয়ে থাকা এই যোগসাধক হয়ত অনেকেরই জীবনে সুকৌশলে অনুপ্রেরণা দিয়ে গেলেন। সেইসঙ্গে সীমান্ত সামলানোর পাশাপাশি বিশ্বের বুকে ভারতের যোগচর্চার আধিপত্যকে নিয়ে গেলেন এক নতুন উচ্চতায়।