ইফতারের দাওয়াত আসরে বাঁদিক থেকে রাজ্যসভার সদস্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ এবং মন্ত্রী শশী বাজার
দেবকিশোর চক্রবর্তী
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে কলকাতার রাজাবাজার ট্রাম ডিপো এলাকায় আয়োজিত ইফতারের দাওয়াত ঘিরে তৈরি হল এক অনন্য সম্প্রীতির পরিবেশ। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক মানুষ।
অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-এর তত্ত্বাবধানে এবং সংগঠক আশফাক আহমেদ-এর নেতৃত্বে। ইফতারের এই আয়োজন শুধুমাত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা এবং মিলনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী ড. শশি পাঁজা। তাঁদের উপস্থিতি এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। অতিথিরা ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রমজানের তাৎপর্য এবং সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বক্তারা বলেন, রমজান শুধুমাত্র রোজা রাখার মাস নয়, এটি আত্মসংযম, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার শিক্ষা দেয়। এমন আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করতে পারেন। বিশেষত বর্তমান সময়ে, যখন সমাজে বিভেদের নানা প্রচেষ্টা দেখা যায়, তখন এই ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।
ইফতারের দাওয়াতে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। অনেকেই জানান, এই ধরনের অনুষ্ঠান তাঁদের মধ্যে একাত্মতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যেও বন্ধনের সেতু তৈরি হয়।
ইফতারের দাওয়াত আসর
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এই ধরনের সম্প্রীতির বার্তা বহনকারী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তাঁদের মতে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একত্রিত করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যদি সামাজিক ঐক্যের পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তা সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, রাজাবাজার ট্রাম ডিপোতে অনুষ্ঠিত এই ইফতারের দাওয়াত কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ছিল সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, ভিন্নতা সত্ত্বেও ঐক্যই আমাদের সমাজের প্রকৃত শক্তি।