লখনৌয়ে রমজানকে কর্মসংস্থানের উৎসে রূপ দিলেন জেহরা কায়নাট

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 18 h ago
 রমজানকে কর্মসংস্থানের উৎসে রূপ দিলেন জেহরা কায়নাট
রমজানকে কর্মসংস্থানের উৎসে রূপ দিলেন জেহরা কায়নাট
 
আর্চলা খান / নয়া দিল্লি

রমজানকে সাধারণত ইবাদত, ধৈর্য ও বরকতের মাস হিসেবে ধরা হয়। তবে লখনউয়ের বাসিন্দা জেহরা কায়নাট এই পবিত্র মাসটিকে শুধুমাত্র আধ্যাত্মিকতা নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তির উৎসে পরিণত করেছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই ক্যালিগ্রাফার, “জেহরা ক্যালিগ্রাফি”–র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, নিজের প্রতিভা দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে সংকল্প দৃঢ় হলে যেকোনো শিল্পই জীবিকার শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
 
রমজান আসলেই তাঁর লেখা কোরআনের আয়াত, ইসলামিক বাণী এবং ক্যালিগ্রাফি ফ্রেমের চাহিদা বেড়ে যায়। ঘর, মসজিদ কিংবা অফিস, সব জায়গাতেই তাঁর শিল্পকর্ম আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে। লেখা জুড়ে থাকে সরলতা, গভীরতা ও মনের টান, যা দেশ–বিদেশে সমানভাবে প্রশংসা পাচ্ছে। সফল শিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি চান ভারতীয় ইসলামিক শিল্পকে বৈশ্বিক পরিচয়ের শীর্ষে তুলে ধরতে। তাঁর স্বপ্ন, একদিন একটি বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে তরুণী ও গৃহবধূরা ক্যালিগ্রাফি শিখে উপার্জনের পথ তৈরি করতে পারবেন।
 
 
রমজান উপলক্ষে জেহরা বিশেষ “সুন্নাহ কিট” বাজারে এনেছেন। ২৪৯ টাকার এই কিটে আছে আফগান টুপি, মিসওয়াক, তসবীহ, সুর্মা ও প্রিমিয়াম পারফিউম, এবং সারা দেশে বিনামূল্যে ডেলিভারি। তার মূল উদ্দেশ্য, মানুষ যেন সুন্নাহ অনুসরণ করে রমজান শুরু করতে পারে এবং আপনজনকে এই কিট উপহার দিতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কিট প্রস্তুত ও প্যাকেজিংয়ের কাজে বহু নারী যুক্ত আছেন, যারা ঘর থেকেই কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, প্যাকিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার, সব শাখায়ই তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
 
জেহরার মতে, রমজানে ইবাদত ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব। সঠিক সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই ভারসাম্য আসে। সেহরির পর ইবাদত, দিনের বেলা কাজ, ইফতারের পর পরিবার, সবকিছুরই জন্য সময় রাখা যায়। রমজান মানুষকে যে নিয়মানুবর্তিতা শেখায়, সেটিই সফলতার মূল চালিকাশক্তি। বিশেষত নারীদের জন্য তাঁর বার্তা,  নিজের সামর্থ্যকে বুঝুন, ছোট কাজ দিয়ে শুরু করতে কখনো দ্বিধা করবেন না।
 
 
রমজানের বাইরে গিয়েও নারীদের জন্য অসংখ্য উদ্যোগ রয়েছে, ঘরোয়া হস্তশিল্প, অনলাইন বেকারি, কাস্টমাইজড গিফট ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সৌন্দর্য-পণ্য কিংবা হার্বাল সামগ্রীর ছোট ব্যবসা। আজকের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নারীদের ব্যবসা শুরু করা আরও সহজ করে তুলেছে। দক্ষতা থাকলেই উপার্জনের পথ খুলে যায়।
 
জেহরা কায়নাটের গল্প দেখায়, বিশ্বাস, পরিশ্রম এবং আত্মনির্ভরতা একসঙ্গে চললে সাফল্য আসবেই। তিনি নিজের প্রতিভাকে শুধু শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং এটিকে কর্মসংস্থান ও অনুপ্রেরণার শক্তিতে পরিণত করেছেন। রমজানের এই পবিত্র মাসে তাঁর উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইবাদতের পাশাপাশি সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার সামলে নিজের স্বপ্ন পূরণে নিষ্ঠাবান নারীদের জন্য জেহরার পথচলা সত্যিকারের আশার আলো।
 

বর্তমানে তিনি নিজে অনুশীলনের পাশাপাশি শিশু, কিশোর–কিশোরী ও তরুণদের ক্যালিগ্রাফি শিখিয়ে চলেছেন। অনলাইন–অফলাইন ক্লাসে যুক্ত হচ্ছে বহু শিক্ষার্থী। তিনি শেখাচ্ছেন, অক্ষরের সৌন্দর্য মানে ধৈর্য, মনোযোগ ও সৃজনশীলতা। তাঁর মতে, ক্যালিগ্রাফি শুধু লেখা নয়, এটি এক ধরনের আধ্যাত্মিক অনুশীলন, যা মনকে শান্ত করে। নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীলতার দিশা দেখিয়েছেন তিনি, ঠিক যেমন রমজান মানুষকে আত্মঅনুসন্ধান ও পুনর্নবীকরণ–এর শিক্ষা দেয়। 
 
জেহরা কায়নাট, এক অনুপ্রেরণার নাম, এক আলোকবর্তিকা। তাঁর পথচলা দেখায়, সামান্য একটি পদক্ষেপও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।