“হজে শূন্য মৃত্যু লক্ষ্য: কিরেন রিজিজুর অকপট কথোপকথন ‘রৌনক-এ-রমজান’-এ”

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 19 h ago
কেন্দ্রীয় সংসদীয় ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইউটিউবে প্রচারিত সেলিব্রিটি মুসলিম দম্পতি মুফতি সৈয়দ আনাস ও সানা খানের অনুষ্ঠান Raunaak-e-Ramadan Season 2-এ
কেন্দ্রীয় সংসদীয় ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইউটিউবে প্রচারিত সেলিব্রিটি মুসলিম দম্পতি মুফতি সৈয়দ আনাস ও সানা খানের অনুষ্ঠান Raunaak-e-Ramadan Season 2-এ
 
নয়াদিল্লি

হজযাত্রাকে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়ত আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে কেন্দ্রীয় সরকার এ বছরে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইউটিউব শো Raunak-e-Ramadan Season 2-এ অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদীয় ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ঘোষণা করেছেন যে এ বছরের লক্ষ্য হলো হজযাত্রীদের মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনা। সে কারণে সরকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
 
সংসদ বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইউটিউবে প্রচারিত সেলিব্রিটি মুসলিম দম্পতি মুফতি সৈয়দ আনাস ও সানা খানের অনুষ্ঠান 'রৌনক-এ-রমজান সিজন ২' ( Raunaak-e-Ramadan Season 2-)-এ উপস্থিত হয়ে বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় কাজ করছে যেন কোনও হজযাত্রী ধর্মীয় কর্তব্য পালনকালে প্রাণ না হারান।
 

তিনি জানান, এ বছর ভারতের সরকারি হজ প্রতিনিধিদলে আরও বেশি স্বাস্থ্য ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ যুক্ত থাকবেন, যারা তীর্থযাত্রীদের তাপপ্রবাহসহ নানা বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা ও পরামর্শ দেবেন। প্রযুক্তির সহায়তায়, সুবিধা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হজযাত্রীদের রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা হবে এবং স্মার্ট ঘড়ির মাধ্যমে তাঁদের স্বাস্থ্যের আপডেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা হবে, যা সবসময় পরিধান করা বাধ্যতামূলক থাকবে।
 
এ ছাড়া, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি হাজিদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে, মেহরাম সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, তিনি অনুষ্ঠানে দম্পতির সঙ্গে এক বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ করেছেন এবং নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে সেই অনুষ্ঠানের একটি ক্লিপও পোস্ট করেছেন। তিনি সানা খান ও মুফতি আনাসকে বলেন, “গত বছর মৃত্যুর হার ছিল সর্বনিম্ন; এ বছর আমাদের লক্ষ্য হলো শূন্য প্রাণহানি।”
 
নিজের কাজ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে রিজিজু বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৌদি আরবে কাজ করার সময় নবী মুহাম্মদের জীবনের সাথে সম্পর্কিত স্থানগুলো পরিদর্শন করতে পেরে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান ও ধন্য মনে করেছেন। তিনি বলেন, “নিজেকে মনে হয় যেন কোনো ভাল কাজের বর পেয়েছি বলেই সেই স্থানগুলো দেখার সুযোগ পেয়েছি।”
 
মন্ত্রী ইতিমধ্যে দু’বার সৌদি আরব সফর করেছেন এবং ভারতীয় হাজিদের উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন। অনুষ্ঠানে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে বলতে রিজিজু বলেন, ভারতের একতার মধ্যে বৈচিত্র্য আমাদের জাতির অন্তর্নিহিত শক্তি। “এটি সংবিধান থেকে আসেনি; আমরা যুগ যুগ ধরে নানা ধর্ম, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা নিয়ে একসঙ্গে বাস করেছি, এটাই আমাদের দেশের সৌন্দর্য।”
 
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ঐক্য রক্ষা করা না গেলে দেশের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে। “যদি এই ঐক্য ভেঙে যায়, তবে দেশই আর থাকবে না।” দ্বিতীয় বর্ষে চলা এই অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সানা খান, একসময়কার জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী, যিনি নিজের কেরিয়ারের শীর্ষ সময়ে কাজ ছেড়ে ধর্মচর্চা ও পারিবারিক জীবনে মনোনিবেশ করেন, এবং তাঁর আলেম স্বামী।
মুফতি আনাস মন্ত্রীকে বলেন, বিদেশে গেলে তিনি খুব তাড়াতাড়ি মনখারাপ করেন এবং দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন, কারণ বিদেশের সমাজগুলো অনেকটাই একঘেয়ে এবং ‘বিরক্তিকর’। “ফিরে আসার পর কোথায় নামলাম তাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল না; আমরা শুধু স্বস্তি পেয়েছিলাম।” ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি সম্পর্কে রিজিজু বলেন, দেশের সাতটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মিলিয়ে বড়সড় একটি জনগোষ্ঠী। “তাদের সংখ্যা প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার সমান, এবং তারা সমান অধিকার ভোগ করেন। শুধুমাত্র কম সংখ্যার জন্য সংখ্যালঘুদের হীন মনে করার কারণ নেই।”
 
তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হিসেবে তিনি কখনও বৈষম্যের শিকার হননি; বরং জীবনে ও কর্মে উন্নতির বহু সুযোগ পেয়েছেন। “সংখ্যালঘুরা সব অধিকার পান; তবে কিছু সাধারণ প্রকল্প তাদের বিশেষভাবে ছুঁতে না পারায় তাদের জন্য আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়।”
 
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পারসিদের জন্মহার কম হওয়ায় প্রায় বিলুপ্তির মুখে থাকা এই সম্প্রদায়কে ‘জিও পারসি’ প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসাগত সহায়তা দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা সন্তান জন্মদানে সক্ষম হন। “পারসিরা যদি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে আমাদেরও একটি অংশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে,” তিনি বলেন।
 
অনুষ্ঠানে সানা খান শাহী টুকড়া রান্না করলে তা-ও দেখেন এবং তার রান্নার দক্ষতার প্রশংসা করেন রিজিজু। শেষে দম্পতি তাঁকে ইত্রের একটি বাক্স উপহার দেন, যা রমজানের একটি পরিচিত অনুষঙ্গ।